জামায়াত আমির

শিক্ষাঙ্গনে পরিকল্পিত সন্ত্রাসী তাণ্ডবের তীব্র নিন্দা ও বিচার দাবি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আজ বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে যান। সেখানে তিনি গতকাল ৪ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত চিকিৎসাধীন জকসু নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তাদের চিকিৎসার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন। হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে তিনি সংক্ষিপ্ত ব্রিফ করেন।

এ সময় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত চার দিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে এক ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের যেসব শান্তিপ্রিয় ও নিরীহ নেতাকর্মী রয়েছেন, তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে সশস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে। সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হলো, ছাত্রদল, যুবদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নামধারী কিছু সন্ত্রাসী এই জঘন্য হামলাগুলো পরিচালনা করছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের এই তাণ্ডব সেখানেই থেমে থাকেনি। গতকাল তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা, ঢাকা কলেজ এবং বাংলা কলেজ—এই চার-চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তারা নজিরবিহীন তাণ্ডব চালিয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচিত জিএস এবং ছাত্রশিবিরের সভাপতিসহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে তারা মারাত্মকভাবে জখম করেছে। এই হামলাগুলো বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, বরং এটি পুরোপুরি আওয়ামী আমলের সেই পরিচিত ফ্যাসিবাদী কায়দায় চালানো তাণ্ডব। আমরা এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

জামায়াত আমির হামলার উগ্রতার বিবরণ দিয়ে বলেন, কোন দল তাণ্ডব চালালো, সেটা বড় কথা নয়; বরং কোন ধরনের তাণ্ডব চললো, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় বিষয়। ফ্যাসিবাদেরা যেমন হেলমেট, মুগুর, হাতুড়ি, তলোয়ার ও বল্লম নিয়ে নেমেছিল, এরাও ঠিক একই কায়দায় মাঠে নেমেছে। আপনারা অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করেছেন, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার মতো একটি সম্মানীয় প্রতিষ্ঠানের স্বয়ং প্রিন্সিপাল সাহেব যখন এই সন্ত্রাসীদের নিবৃত্ত করতে গিয়েছিলেন, তখন তারা তার মাথাও ফাটিয়ে দেয়।  তার মাথায় ১১টি সেলাই দিতে হয়েছে! এমনকি একজন শিক্ষককেও তারা ক্ষমা করেনি! এদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, অতীত থেকে এরা কোনো শিক্ষাই নেয়নি।

সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, আমরা সরকারি দলের কাছ থেকেই দেখতে চাই, তারা কী ব্যবস্থা নেয়। আমরা দেখতে চাই, আপনারা বরাবর যেটা বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই, যে-ই সন্ত্রাস করবে তার ওপর আইন প্রয়োগ হবে’, আমরা এখন সেই আইনের প্রয়োগটাই দেখতে চাই। যদি তারা এর সদিচ্ছা দেখাতে পারেন, তবে জনগণ তাদের মোবারকবাদ জানাবে এবং বাংলাদেশের সুস্থ ধারার রাজনীতির ক্ষেত্রে এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। কিন্তু যদি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে জনগণ ধরে নেবে যে আপনাদের সিদ্ধান্তেই এসব হচ্ছে।

ডা. শফিকুর রহমান কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, এভাবে যদি অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হয় অথবা কেউ যদি অন্যায়কে উস্কে দেন, তবে মনে রাখবেন, রোগ যখন হয়, তার ওষুধ কিন্তু একটাই। এক রোগের ভিন্ন ওষুধ হয় না। আর জনগণ সেই ওষুধ খুব ভালো করেই জানে!

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতিবৃন্দ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতৃবৃন্দ এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও শাখা পর্যায়ের দায়িত্বশীলবৃন্দ।