আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আবৃত্তি ও সংস্কৃতিচর্চা মানুষকে গণতন্ত্র, মানবিক মূল্যবোধ, মুক্তচিন্তা ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে। তিনি আরও বলেছেন, একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক ও রক্তপাতহীন সমাজ গঠনে আবৃত্তি ও সংস্কৃতিচর্চার ভূমিকা অপরিসীম।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ‘স্মৃতির দর্পণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে 'বাঙলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন'।
আইনমন্ত্রী ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ, আহত জুলাই যোদ্ধা এবং গত ১৬ বছরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিহত, গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, 'তাদের দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও ত্যাগের যৌক্তিক এবং সফল পরিণতি ছিল ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান।'
এডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, 'বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জুলাইয়ের চেতনা ছড়িয়ে দিতে এবং বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার মাধ্যমে সেই চেতনাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।'
তিনি বলেন, 'দীর্ঘদিন আবৃত্তিচর্চা দেশের শিল্প-সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হওয়া সত্ত্বেও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত ছিল। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় সংসদে আইন সংশোধনের মাধ্যমে আবৃত্তিকে দেশের শিল্প-সংস্কৃতির অন্যতম একটি শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'
মন্ত্রী আরো বলেন, 'আবৃত্তিশিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা কবিতা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গণতান্ত্রিক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এ ধরনের উদ্যোগ একটি সুন্দর, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সহায়ক হবে।'
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, আইনমন্ত্রীর সহধর্মিণী শিরিন সুলতানা, বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।
আলোচনা শেষে আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।