জীবনমরণের সীমানা ছাড়ায়ে

আজ ২২ শ্রাবণ। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অবিসংবাদিত প্রবাদপুরুষ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস। ১৯৪১ সালের ৬ আগস্ট, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে ৮০ বছর বয়সে তিনি পরলোকগমন করেন। বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় ছিল তার বিচরণ।

বাঙালির মনন ও জীবনাচারে প্রতিনিয়ত উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হচ্ছে রবীন্দ্রদর্শন। তিনি সাহিত্যের এমন বিচিত্র এক জগৎ রচনা করেছেন, যা বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধের পাশাপাশি বিশ্বসাহিত্যকেও করেছে মহিমান্বিত। বিপুল তার রচনা, বিচিত্র তার বিষয়। কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ, সংগীত, ভ্রমণ কাহিনি, চিঠিপত্র, সমালোচনা ও চিত্রকলা সমৃদ্ধ হয়েছে তার অনন্য সৃষ্টিতে।

১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি নোবেল পুরস্কার পান। তার নোবেলপ্রাপ্তি বাংলা সাহিত্যকে বিরল গৌরব এনে দিয়েছে।

শুধু সৃজনশীল সাহিত্য রচনায় নয়, সমাজ, রাষ্ট্র, শিক্ষা, অর্থনীতি নিয়ে স্বকীয় ভাবনাও তাকে অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে। গরিব কৃষক প্রজার কল্যাণে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কৃষি সমবায় ব্যাংক। ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন শান্তিনিকেতন।

রবীন্দ্র জীবনী থেকে জানা যায়, মৃত্যুর মাত্র সাত দিন আগে পর্যন্ত কবি সৃষ্টিশীল ছিলেন।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ যখন ইহধাম ত্যাগ করেন, সেদিন শোকার্ত বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্বকবির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে লিখেছিলেন ‘দুপুরের রবি পড়িয়াছে ঢলে অস্তপারের কোলে/ বাংলার কবি শ্যাম বাংলার হৃদয়ের ছবি তুমি চলে যাবে বলে/ শ্রাবণের মেঘ ছুটে এলো দলে দলে।’

প্রসঙ্গত, ১২৬৮ সনের ২৫ বৈশাখ ইংরেজি ১৮৬১ সালের ৮ মে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। নানা আয়োজনে আজ কবিগুরুর প্রয়াণ দিবস পালন করবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষেরা।