গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। গতকাল বুধবার জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটরিয়ামে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২ বছর পেরিয়েছে। আজ সমগ্র বাংলাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় এই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনা স্মরণ করা হচ্ছে। আমরা চাই, এই আদর্শ ও চেতনা বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে জাগ্রত থাক। কারণ, হাজার মানুষের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত এই চেতনাকে কোনো অপশক্তি যেন ভুল পথে পরিচালিত করতে না পারে, সেজন্য আমাদের সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্মৃতিচারণ করে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারকে দীর্ঘদিন ধরে একটি গোষ্ঠী ও পরিবার কুক্ষিগত করে রাখতে চেয়েছিল। তবে তরুণ প্রজন্ম, ছাত্রসমাজ, কৃষক, শ্রমিকসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ সেই পরিস্থিতি মেনে নেয়নি। তারা প্রলোভন ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থকে বড় করে দেখেছে। এটি ছিল অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের সম্মিলিত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অ্যাডিশনাল ডিআইজি ড. মো. সাইফুল্লাহ বিন আনোয়ার, জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার, পুলিশ সুপার এ. জেড. এম. মোস্তাফিজুর রহমান, প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এবায়দুল হক চাঁন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকসহ জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা।
অনুষ্ঠানে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহীদ জুলাই যোদ্ধাদের নিয়ে একটি বিশেষ ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এর আগে সকাল ১০টায় বরিশালের আমতলার মোড়ে ‘শহিদ জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতিফলকে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তথ্যমন্ত্রী।