মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ভেতরে জ্বালানি তেলে কিছুটা স্বস্তির খবর এসেছে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে। হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যকার সাম্প্রতিক আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে- এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন, এই কূটনৈতিক উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে চলা দীর্ঘদিনের সংঘাত কমিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ওমানের মধ্যকার এই আলোচনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করতে পারে। যদি এমন একটি চুক্তি বাস্তবে রূপ নেয়, তবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে পুনরায় স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। এই আশার আলো দেখেই তেলের বাজারে অস্থিরতা কিছুটা কমেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্ন্তজাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩৭ সেন্ট বা ০.৫ শতাংশ কমে ৭৯.০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড তেলের দাম ৫৩ সেন্ট বা ০.৭ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৭৪.৬৯ ডলারে নেমে আসে। এর আগের দিন বাজার কিছুটা ওঠানামা করে লেনদেন শেষ করলেও নতুন আলোচনার খবরে দরপতনের ধারা স্পষ্ট হয়।
গত ৫ মাস ধরে চলা চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বড় ধরণের উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে কূটনৈতিক এই তৎপরতা সফল হলে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরে এলে আগামী দিনগুলোতে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক থাকবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।