দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশের মুখোমুখি হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া দল এবার এক ঝাঁক ‘অজানা চ্যালেঞ্জের’ মুখোমুখি। বিশেষ করে ডারউইনে দীর্ঘ ২২ বছর পর হতে চলা টেস্ট এবং শান্ত-মিরাজদের বিপক্ষে খুব কম ম্যাচ খেলার সুবাদে পরিকল্পনা সাজাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে অজি পেসারদের।
তবে এই অচেনা পরিস্থিতিকেই দারুণ রোমাঞ্চকর ও সতেজ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন অভিজ্ঞ পেসার জশ হ্যাজলউড। মাঠের পরিস্থিতি বুঝে উইকেটে বসেই কৌশল ঠিক করতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
পেশাদার ক্রিকেটে চার শতাধিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দীর্ঘ ১৫ বছরে বাংলাদেশের বিপক্ষে খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি ৩৪ বছর বয়সী হ্যাজলউডের। এর আগে ২০১৭ সালের বাংলাদেশ সফর কিংবা সদ্য সমাপ্ত সীমিত ওভারের সিরিজে না থাকায় সফরকারী এই দলের বিপক্ষে টেস্টে তার অভিজ্ঞতা বেশ সীমিত। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাত্র ৯টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি, যার শেষ তিনটি ছিল সাদা বলের বিশ্বকাপে।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এই সিরিজ এবং ডারউইনের মারিয়ারা স্টেডিয়ামে দীর্ঘ দুই যুগ পর টেস্ট ম্যাচ আয়োজন, সব মিলিয়ে অজি শিবিরের ট্যাকটিক্যাল প্রস্তুতিতে নতুন সমীকরণ যোগ করেছে। দ্য আনপ্লেয়েবল পডকাস্টে এ নিয়ে হ্যাজলউড বলেন, ‘ম্যাচে নামার আগে অনেক কিছুই আমাদের অজানা। মাঠ কেমন হবে, বিশেষ করে উইকেট এবং এই কন্ডিশনে প্রতিপক্ষ কেমন খেলবে, সবই অচেনা। তবে আমি মনে করি বিষয়টি বেশ রোমাঞ্চকর।’
মাঠে নেমে পরিস্থিতি বুঝে পরিকল্পনা সাজানোর বিষয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের নিয়ে কিছু ভিডিও ফুটেজ ও তাদের প্রবণতা হয়তো আমাদের জানা আছে, তবে মাঠে নেমে পরিস্থিতি বুঝে তাৎক্ষণিকভাবে পরিকল্পনা সাজাতে হবে। আর এই কাজটি সবসময়ই বেশ সতেজ ও উপভোগ্য।’
এদিকে ডারউইনের শুষ্ক ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় মারিয়ারা স্টেডিয়ামের ড্রপ-ইন উইকেট বেশ ধীরগতির হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাবেক অজি পেসার এবং এই দ্য আনপ্লেয়েবল পডকাস্টের সহ-উপস্থাপক কেন রিচার্ডসন। পার্থ বা গ্যাবার মতো বাউন্স ও সিম মুভমেন্ট এখানে পেসারদের জন্য খুব একটা সহায়ক হবে না বলেই ধারণা তার।
টেস্ট ক্যারিয়ারে উইকেটের ত্রিপল সেঞ্চুরির (বর্তমানে ২৯৫ উইকেট) দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা হ্যাজলউড মনে করেন, দীর্ঘ ফরম্যাটের ক্রিকেটে সরল পরিকল্পনা ও নিখুঁত এক্সিকিউশনই মূল চাবিকাঠি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে পরিকল্পনা বেশ সহজ। আসল ব্যাপার হলো নিখুঁতভাবে তা বাস্তবায়ন করা এবং দীর্ঘ সময় ধরে সেটি ধরে রাখা। ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী হয়তো সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে টেস্টের পরিকল্পনা খুব সহজ। এখানে মানিয়ে নেওয়ার জন্য আপনি যথেষ্ট সময় পান। হয়তো প্রথম স্পেলের মাঝামাঝি গিয়েই আপনি বুঝতে পারবেন যে নতুন কোনো কৌশল চেষ্টা করা দরকার। কিন্তু টি-টোয়েন্টিতে সেই সময়টুকু আপনি পাবেন না, সেখানে সামান্য ভুল করলেই বল সরাসরি সীমানার বাইরে চলে যাবে।’