ডটস কর্নারে ওষুধের সংকট, বিপাকে যক্ষ্মা রোগীরা

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডটস কর্নারে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসায় আবশ্যিক ব্যবহার্য টু এফডিসি (রিফামপিসিন ও আইসোনিয়াজিড) ট্যাবলেটের সরবরাহ সংকটের কারনে টিবি রোগীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। সংকটের কথা স্বীকার করে ডটস কর্নারে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে প্রায় এক মাস ধরে প্রয়োজনীয় এই ওষুধের সরবরাহ না থাকায় রোগীদের ঠিকমতো ওষুধ দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে দূরদূরান্ত থেকে অনেকে কষ্ট করে এসেও ওষুধ না পেয়ে বিফলমনোরথ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডটস কর্নারে বিনামূল্যে যক্ষ্মা রোগীদের কফ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। প্রতিদিন অন্তত ৮/১০ জন সন্দেহভাজন রোগী কফের নমুনা নিয়ে আসেন। পরীক্ষার পর অন্তত শতকরা ৬০/৭০ জনেরই যক্ষ্মা রোগ শনাক্ত হয়। শনাক্তকৃত রোগীদের মাসিক ভিত্তিতে যক্ষ্মার ওষুধ দেওয়ার কথা থাকলেও গত প্রায় একমাস ধরে সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় কার্ডধারী অনেকেই ওষুধ পাচ্ছেন না। ডটস কর্নারে তালিকাভুক্ত রোগীর সংখ্যা ৪৫০ জন বলে জানা গেছে। এর অর্ধেক সংখ্যক রোগীকেই রোগের বিস্তার (বর্তমান অবস্থা অনুযায়ী) নিয়মিত ৩/৪ টি করে টু এফডিসি ট্যাবলেট খেতে হয়। 

আর প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা রোগীদের প্রতিদিন ২টি করে ট্যাবলেট খেতে হয়। সূত্র মতে সরবরাহ কম থাকায় যাদের ৩/৪টি ট্যাবলেট খাওয়ার কথা তারাই বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সরবরাহ কম থাকায় আগত সব রোগীকেই ওষুধ দিতে গিয়ে সবদিক ঠিকমতো সামলানো যাচ্ছে না। অনেক রোগীকে মাসে একবারের পরিবর্তে চারবার এখন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডটস সেন্টারে আসতে হয়। এতে রোগীদের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি যাতায়াত খরচ বাবদ বাড়তি টাকাও খরচ করতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান জাহাঙ্গীর ডটস কর্নারে ওষুধ সরবরাহে অপ্রতুলতার কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন কিছুদিনের মধ্যেই সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং রোগীদের দুর্ভোগ কমে যাবে।