ফেনীতে পৃথক ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু, আহত ১

ফেনীতে পৃথক দুটি ঘটনায় এক রিকশাচালক ও এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফেনী-ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সদর উপজেলার নিজকুনজরা এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় সাইদুল ইসলাম (৩২) নামে এক ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক নিহত হন। এ ঘটনায় রিকশার এক যাত্রী আহত হয়েছেন।

নিহত সাইদুল ইসলাম ছাগলনাইয়া উপজেলার ছয়ঘরিয়া গ্রামের আবদুল হাইয়ের ছেলে।

ফাজিলপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু নোমান জানান, বারইয়ারহাট থেকে এক যাত্রী নিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশাযোগে ছাগলনাইয়ার দিকে যাচ্ছিলেন সাইদুল ইসলাম। নিজকুনজরা এলাকায় মহাসড়কের ইউ-টার্ন অতিক্রম করার সময় পেছন থেকে আসা স্টার লাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস রিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে রিকশাচালক ও তার যাত্রী গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইদুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত যাত্রীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এসআই আবু নোমান আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও রিকশাটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এদিকে, দাগনভূঞা উপজেলায় তানিয়া আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্বজনদের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তবে স্বামীর পরিবারের দাবি, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

নিহত তানিয়া আক্তার দাগনভূঞা উপজেলার দক্ষিণ করিমপুর এলাকার বাসিন্দা এবং মোহাম্মদ ওয়াজেদের (৩০) স্ত্রী।

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের ভাই মাঈন উদ্দিন খান দাবি করেন, প্রায় সাত বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর দুই মাস আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় বরপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী প্রায় চার লাখ টাকা ব্যয়, একটি স্বর্ণের চেইন, নগদ অর্থ এবং বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী দেওয়া হয়।

তার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তানিয়াকে যৌতুকের বাকি জিনিসপত্র এবং স্বামীর বিদেশযাত্রার (ইকামা সংক্রান্ত) খরচের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

এছাড়া বিয়ের দুই মাসের মধ্যে সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করেও তাকে মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে পরিবারের দাবি।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে এটিকে আত্মহত্যা বলে দাবি করা হয়েছে। তবে নিহতের স্বজনরা অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।