হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া উম্মেতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেছেন বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দাখিল করা ওই অভিযোগপত্রে অভিভাবকরা দাবি করেন, প্রধান শিক্ষক ২০১৪ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ প্রতিষ্ঠানের তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের আর্থিক লেনদেনের ওপর বিশেষ অডিট পরিচালনারও দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের অর্ধবার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার ফি এবং শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন ওয়েবসাইটে জমা দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে নগদ অর্থ প্রদান করা হলেও পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের অনলাইন তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, ওই অর্থ বকেয়া হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, আদায়কৃত অর্থ বিদ্যালয়ের তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের ক্ষেত্রে শিক্ষা বোর্ড নির্ধারিত ফি-এর অতিরিক্ত অর্থ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ২০১৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের প্রশংসাপত্র (টেস্টিমোনিয়াল) প্রদানের নামে আদায় করা আনুমানিক আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা প্রতিষ্ঠানের হিসাবভুক্ত না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দোকান থেকে ফাঁকা ভাউচার সংগ্রহ করে পরবর্তীতে তাতে ইচ্ছামতো টাকার অঙ্ক বসিয়ে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে প্রতিষ্ঠানের অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীরা ১ জানুয়ারি ২০১৪ থেকে ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বিদ্যালয়ের সব আর্থিক হিসাবের বিশেষ অডিটসহ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আবেদনে অভিভাবকদের পক্ষে মো. ইলিয়াছ মিয়া ও মো. আব্দুর রহমান স্বাক্ষর করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আন্দিউড়া উম্মেতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম দাবি করেন তিনি একটি মহল বিশেষের ষড়যন্ত্রের শিকার। বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষকও এই চক্রান্তে জড়িত।
অভিযোগের অনুলিপি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক), হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, সিলেট অঞ্চলের উপ-পরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।