আহত ব্যক্তির চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে: হাইকোর্ট

সড়ক দুর্ঘটনা, ছিনতাইকারীর হাতে আহত বা যে কোনো দুর্ঘটনার শিকার আহত ব্যক্তিদের সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। 

এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দিতে স্বাস্থ্য সচিবকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আট বছরের বেশি সময় আগে দেওয়া রুল আংশিক মঞ্জুর করে আজ বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রুল দেয়। 

পাশাপাশি ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন করে কেবল সড়ক দুর্ঘটনা নয়, বরং সব ধরনের দুর্ঘটনায় আহতদের নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসার বিধান অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দিয়েছে হাইকোর্ট। 

২০১৮ সালের ২৭ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ছিনতাইকারীর হাতে দুজন নিহত হওয়ার প্রতিবেদন ছাপা হয়। এর মধ্যে ওই বছরের ২৬ জানুয়ারি ঢাকার সায়েদাবাদে ছিনতাইকারীর হাতে আহত হয়ে খুলনার সোনাডাঙ্গার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী মো. ইব্রাহিম টিকাটুলির সালাউদ্দিন হাসপাতালে গেলে তাকে চিকিৎসা দিতে অসীকৃতি জানিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তিনি ঢাকা মেডিকেলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। 

এছাড়া ২৬ জানুয়ারি ধানমন্ডির ৭ নম্বর সড়কে ছিনতাইকারীদের গাড়িচাপায় পিষ্ট হয়ে মারা যান বেসরকারি হাসপাতালের কর্মী হেলেনা বেগম। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’র (এইচআরপিবি)। 

২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট মানুষের জীবন রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা জারি করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং ভূক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেয় হাইকোর্ট। সেই রুল আংশিক মঞ্জুর করে রায় দেয় হাইকোর্ট। আদালতে রিট আবেদনের ওপর শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও এইচআরপিবি’র সভাপতি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। 

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ জীসান হায়দার। সালাহউদ্দিন হাসপাতালের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কাজী এরশাদুল আলম।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে কোনো ধরণের চিকিৎসা একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায় ছিনতাইকারী বা দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিলে নানা কারণ দেখিয়ে অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আহত ব্যক্তি সঠিক সময়ে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেন। অথচ হাসপাতালগুলো যখন সরকারের কাছ থেকে নিবন্ধন নেয় তখন চিকিৎসা দেওয়া নিশ্চয়তা নিয়েই তা নেয়।’  

তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ ও সহায়তাকারী সুরক্ষা প্রদান নীতিমালা-২০১৮ প্রণয়ন হয়েছিল। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতলের ক্ষেত্রে এ ধরণের নীতিমালা এখনো হয়নি। ফলে আহত ব্যক্তির প্রাথমিক কিংবা যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত হয় না।’ 

মনজিল মোরসেদ বলেন, হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করেন কোনো দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি সরকারি-বেসরকারিসহ সব হাসপাতাল-ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে নির্দেশনা অবিলম্বে জারি করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া ২০১৮ সালের সড়ক দুর্ঘটনা আইনের সংশোধন করে সব ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে নিকটস্থ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিধি প্রণয়নেরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।