গোলাপ গন্ধরহস্য

গোলাপের জিন কাঠামো ও সুগন্ধের উৎস উন্মোচন করেছেন বিজ্ঞানীরা। যেখানে স্ট্রবেরির সঙ্গে এর মিল পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের জলাশয়ে পানির নিচে লুকিয়ে থাকা এক ধরনের রহস্যময় বন-গোলাপের দেখা মেলে। গোলাপের বাহারি রঙ-রূপ বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু মিষ্টি গন্ধ কমে যাচ্ছে। ফুলের মিষ্টি গন্ধ সৃষ্টির পেছনে রয়েছে এক বিস্ময়কর রহস্য এবং অভিনব হাতিয়ার। সেটি হলো একটি এনজাইম বা উৎসেচক, একটি কর্মঠ অণু যা ডিএনএকে যথাযথভাবে সাজিয়ে রাখতে সাহায্য করে। এই এনজাইম অনেক গোলাপ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। যে কারণে গোলাপে সৌরভ আগের মতো পাওয়া যাচ্ছে না। গোলাপের পাপড়ির বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ, বাতাসের অক্সিজেনের সঙ্গে মিশে সুবাস ছড়ায়। বিজ্ঞানীরা গোলাপের জিনোম সিকোয়োন্স বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, এর সঙ্গে স্ট্রবেরি ফলের জিনগত মিল আছে। আরব ও হিন্দু পৌরাণিক কাহিনিতে, লাল ও সাদা গোলাপের উৎপত্তি নিয়ে নানা রহস্যময়গল্প প্রচলিত। প্রাচীন খ্রিস্টীয় বিশ্বাস অনুযায়ী আদিপাপে পৃথিবী আক্রান্ত হওয়ার আগে, স্বর্গের এদেনের বাগানে গোলাপে কাঁটা ছিল না। বাংলাদেশের হাওর বা জলাভূমি এলাকায় পানির নিচে মাসাধিককাল ডুবে থেকে বেঁচে থাকা এবং পানি সরলে ফুল ফোটা এক বিশেষ বন-গোলাপের সন্ধান পাওয়া যায়। গোলাপ পাঁপড়ির গড়ন ও বিন্যাসে এক ধরনের নান্দনিকতা রয়েছে, যা মানুষকে আকৃষ্ট করে। সুগন্ধী গোলাপের ঘ্রাণ মানুষের প্রিয়। তবে এর নিজস্ব গন্ধ নেই। কারণ গন্ধ উৎপাদনের ক্ষমতা নেই। গোলাপি বর্ণ ছাড়াও লাল, হলুদ, সাদা, সবুজ, গোলাপ রয়েছে। বিশ^ব্যাপী চিকিৎসাক্ষেত্রে গোলাপের রয়েছে ব্যবহার। শুধু তাই নয়, এই ফুল বিভিন্ন ভিটামিনের মিশ্রণ।