কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার

নেত্রকোনায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়াকে (৩৩) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার অচিন্তপুর এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শুক্রবার (৭ আগস্ট) তাঁকে নেত্রকোনা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ময়মনসিংহ র‍্যাব-১৪-এর সদর কোম্পানি কমান্ডার মেজর মীর ইশতিয়াক আমিন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। রিপন মিয়া নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের নন্দুরা গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহার ও র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রিপন মিয়া বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। গত ৩০ জুলাই রাতে জরুরি কথা আছে বলে তাঁকে মগড়া নদীর পাড়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

ঘটনাটি জানাজানি হলে ওই রাতেই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন। এরপর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। তাঁকে গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র‍্যাব। পরে বৃহস্পতিবার রাতে গৌরীপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর গত সোমবার রাতে স্থানীয় বিএনপির কার্যালয়ে একটি সালিস বৈঠক বসে। সেখানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে রিপন অভিযোগ স্বীকার করে ক্ষমা চান। পরে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে ওই অর্থ পরিশোধ করতে না পারলে তাঁর বাড়ি ভুক্তভোগীকে লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একই সঙ্গে তাঁকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সালিসের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। একটি ভিডিওতে রিপনকে অভিযোগ স্বীকার করে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি একজন মাতব্বরের পা ধরে ক্ষমা চান।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করেছে। তাঁকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।