শুরুতে কিছুটা চাপ থাকলেও শেষ পর্যন্ত দারুণ প্রত্যাবর্তনে ইউনিভার্সিটি স্পোর্টস দক্ষিণ আফ্রিকাকে (ইউএসএসএ) হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ইমার্জিং দল। বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সঙ্গে ব্যাটারদের দায়িত্বশীলতায় ৭ উইকেটের সহজ জয় পেয়েছে সফরকারীরা।
ইরেনের কাউন্ট্রি ক্লাব মাঠে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল ইউএসএসএ। ওপেনার জেসন মুইরহেড মাত্র ১ রান করে ফিরলেও লুডউইচ স্কুল্ড ও ডেভিড টীগারের ব্যাটে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখছিল তারা। দুজনই ফিফটি তুলে নেন। ৫৭ বলে ৫১ রান করে স্কুল্ড ফিরলেও টীগার ছিলেন আরও আক্রমণাত্মক। তিনে নেমে ৫৭ বলে ৭২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি।
টীগারের বিদায়ের পরই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে ইউএসএসএ। ১২৬ রানে মাত্র ১ উইকেট হারানো দলটি শেষ পর্যন্ত থামে ১৬৬ রানে। শেষ ৯ উইকেট হারায় মাত্র ৪০ রানের ব্যবধানে।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল মোহাম্মদ রিজওয়ান। ৪ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং বিভাগে ধস নামাতে বড় ভূমিকা রাখেন এই ডানহাতি পেসার। এ ছাড়া আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও রহনতদৌলা বর্ষণ নেন ২টি করে উইকেট। ইকবাল হোসেন ইমন ও সামিউন বশির রাতুল একটি করে উইকেট শিকার করেন।
১৬৭ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুতে ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। দুই ওপেনার মাহফিজুল রবিন ও হাবিবুর রহমান সোহান দ্রুত ফিরে যান। রবিন করেন ৮ রান, আর সোহান ফেরেন কোনো রান না করেই। এরপর দলের বিপর্যয় সামাল দেন শাহাদাত হোসেন দিপু ও ইফতিখার হোসেন ইফতি।
ইফতি ২২ বলে ১৭ রান করে বিদায় নিলে দিপুর সঙ্গে জুটি গড়েন ইরফান শুক্কুর। এরপর আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ দেয়নি বাংলাদেশ। দুজনের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দ্রুতই জয়ের পথে এগিয়ে যায় দল।
শুক্কুর ৩৯ বলে ৫৮ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে দিপু ৫৬ বলে ৭৩ রান করে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। ইউএসএসএর হয়ে দুটি উইকেট নেন ইসোসা আইহেভবা।
তিন দলের এই টুর্নামেন্টে চার ম্যাচের সবকটিতে হেরে কোনো পয়েন্ট ছাড়াই বিদায় নিয়েছে ইউএসএসএ। অন্যদিকে বাংলাদেশ ইমার্জিং ৪ পয়েন্ট এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ পয়েন্ট নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।