জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিনে ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে। এ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। এরপরও আগামী মাসে ভারত সফরে যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর এ সফর হতে পারে। সেখানে ব্রিকস আউটরিচ কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক হতে পারে। বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, তিস্তাসহ যৌথ নদীর পানি বণ্টন, বাণিজ্যিক বাধা দূরীকরণ এবং বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাতে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। তবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করবে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে নানা ইস্যুতে জটিলতা থাকতেই পারে। কিন্তু প্রতিবেশী তো পাল্টানো যাবে না। সরকার গঠনের দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সমস্যা রয়েছে। এগুলো সমাধানে আলোচনা দরকার। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হতে পারে। এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতে বসে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার যে চিঠি দিয়েছে তার উত্তর পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে এসব ইস্যুতে বিরোধী দল রাজনীতির মাঠ গরম করতে পারে। সব মিলিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম কোন দেশে যাবেন তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়। এরপর গত জুন মাসে মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। সেপ্টেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে। এর বাইরে সৌদি আরবসহ একাধিক সরকার তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
এদিকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌম সমতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে গঠনমূলক কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখছি। ভারত সফরের বিষয়ে যথাসময়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রাখছি।’ প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশনের (বিমসটেক) বর্তমান সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নিজেই নেবেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ বিমসটেকের সভাপতিত্ব করছে। ব্রিকস একটি বহুপাক্ষিক সংস্থা, যেখানে বাংলাদেশ অবশ্যই অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী। সেই হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সেখানে অংশগ্রহণ করবেন কি করবেন না, সেটা ওনার ব্যস্ততা, ওনার সময় এবং উনি সেটা বলে দেবেন। সিদ্ধান্তটা ওনাকেই নিতে হবে, কারণ ওনার সময়সূচির ওপর নির্ভর করবে উনি যেতে পারবেন কি পারবেন না।
ভারতের দিক থেকে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ছাড়াও দ্বিপক্ষীয় সফরের একটি আমন্ত্রণ রয়েছে। দুটি আমন্ত্রণ কি এখনো রয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, দাওয়াত তো আছে। সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ’ পর্বে অংশ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। তবে ওই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে বাংলাদেশ সম্মেলনে যোগ দেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সাংবাদিকরা জানতে চান, বাংলাদেশের অবস্থান বারবার ভারতকে জানানোর পরও দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস ব্রিফিং হয়েছে। এ রকম চলতে থাকলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সফরের মতো ভালো সম্পর্ক থাকবে কি না।
শামা ওবায়েদ বলেন, আমরা চাই ভালো সম্পর্ক থাকুক দুই দেশের জনগণের স্বার্থে। কিন্তু সম্পর্কটা তো হবে সমতার ভিত্তিতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা-সম্মানের জায়গা রেখে এবং নিজেদের স্বার্থটাকে বজায় রেখে। ভারত সেটা বুঝতে পারলে সবার জন্য মঙ্গল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারত আর বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নত হোক সেটা আমি বিশ্বাস করি যে দুই দেশের সরকার দুই দেশের জনগণ সেটা চায়। কিন্তু ভারতের মাটিতে বসে স্বৈরাচারী ফ্যাসিবাদী সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের লোকজন এবং আওয়ামী লীগের প্রধান যদি এই ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে থাকে এবং সেটা যদি ভারত সরকার এখনই বন্ধ না করে, এই মুহূর্তে বন্ধ না করে তাহলে অবশ্যই সেটা বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটা উদ্বেগের জায়গা তৈরি করে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগের ব্রিফিংয়ে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন একজন সাংবাদিক। জয়সোয়াল সেদিন বলেছিলেন, বিষয়টি জেনে পরে জানাবেন। গত মঙ্গলবার সেই প্রশ্ন নতুনভাবে করা হয়। জানতে চাওয়া হয়, তারেক রহমানকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নাকি বিমসটেকের চেয়ারপারসন, কোন পদমর্যাদায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। জবাবে জয়সোয়াল বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রিত্ব লাভের সময়েই তারেক রহমানকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে এবার তাকে যে আলাদা আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে, তা বিমসটেকের চেয়ারপারসন হিসেবে। তিনি বলেন, এটাই প্রচলিত প্রথা। অন্যান্য আঞ্চলিক গোষ্ঠীর নেতাদেরও এভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে বিএনপি। এদিন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণপত্রটি তারেক রহমানের হাতে তুলে দেন। পত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এর আগে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপন ও গৃহীত হয়। দেশটির বাজেট অধিবেশনের শুরুতে সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় এবং লোকসভায় তার স্মরণে এই শোক প্রকাশ করা হয়। এর আগে ৩১ ডিসেম্বর ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর। তিনি এসেই সংসদ ভবনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে ভারতের শোকবার্তা পৌঁছে দেন। বিষয়টি বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানানো হয়। এতে বলা হয়, ‘গণতন্ত্রের মা’, ‘সাহস ও সংগ্রামের প্রতীক’ এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ আপসহীন নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকবার্তা পাঠিয়েছে ভারত।
শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে অসন্তোষ সরকারের : ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে নয়াদিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অডিও কলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। সেই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন। এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিএনপি সরকার।
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ কেন দিল এটি আমাদের প্রশ্ন। ভারত তাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু সেখানে আশ্রয়ে থেকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন; তাকে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হলো।’
দিল্লিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন আয়োজনকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি চরম অসম্মান বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘পতন দিবসে দ-প্রাপ্ত ও পলাতক হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে ভারত সরকার দ্বিমুখী নীতি ও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা প্রকাশ করেছে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের দিনটিতে অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেড় হাজারেরও বেশি ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়ে স্বৈরাচার পতন করেছে, সেই দিনেই এমন কার্যক্রম শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি ও চরম অসম্মান।’
এদিকে ভারতের নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত হতে পারেন, এমন খবর যখন আলোচনায় আসে, তখনই বাংলাদেশের বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে ভারতের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। গত সোমবার ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সে সময় পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা দিল্লিতে শেখ হাসিনা যাতে রাজনৈতিক কার্যক্রম না চালান, সেজন্য ভারত সরকারের সহযোগিতা চান। একই দিনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ভারত সরকারকে এ বিষয়ে অবস্থান ‘স্পষ্ট’ করতে আহ্বান জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিকে ঘিরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন, দুই দেশের সম্পর্ককে স্বাভাবিক করার চেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
পরের দিন মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে প্রশ্নোত্তরে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল ভারত সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লিতে বেসরকারি মঞ্চে যুক্ত হয়ে কথা বলা বা সেখানে কোনো রকম মনোভাব প্রকাশের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সংস্রব নেই। ওই জাতীয় ঘটনার সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো লেনাদেনাও নেই। দিল্লিতে শেখ হাসিনার আগামীকালের (বুধবার) সম্ভাব্য অনুষ্ঠান নিয়ে ভারত সরকারের বক্তব্য এটাই।’
প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন, যে অনুষ্ঠান ও মতবিনিময়ের প্রসঙ্গের অবতারণা করা হয়েছে, তার আয়োজক একটি বেসরকারি মিডিয়া সংস্থা। ওই অনুষ্ঠান বা আয়োজনের সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো যোগাযোগ নেই। কোনো লেনাদেনাও নেই। এই ধরনের অনুষ্ঠানে যে ধরনের মনোভাব প্রকাশ করা হয় বা হতে পারে, যা কিছু বলা হতে পারে, সরকার তা অনুমোদনও করে না।