পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালালো ভারত

পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র 'অগ্নি-৪' (Agni-4)-এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে ভারত। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভারতের কৌশলগত বাহিনী কমান্ডের (SFC) অধীনে এই ব্যবহারকারী পরীক্ষাটি (User Trial) চালানো হয়, যা ক্ষেপণাস্ত্রটির সমস্ত পরিচালন ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড সফলভাবে পূরণ করেছে। ওড়িশার চাঁদিপুর সমন্বিত পরীক্ষা কেন্দ্র (ITR) থেকে পরীক্ষাটি চালানা হয়।

চীনের শক্তিশালী সাবমেরিন-ভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পরপরই ভারতের এই পদক্ষেপ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক ভারসাম্যের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভারত স্থলভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়া।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, উড়িশ্যার চাঁদিপুরের ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকে পরীক্ষাটি চালানো হয়। তবে, নতুন কোনো ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা প্রদর্শনের পরিবর্তে সামরিক বাহিনীর ব্যবহারে থাকা অগ্নি-৪-এর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। ফলে ক্ষেপণাস্ত্রটির নির্ভরযোগ্যতা, সেনাদের দক্ষতা, সরবরাহব্যবস্থা এবং স্বল্প সময়ের নোটিশে মোতায়েনের সক্ষমতা যাচাই করতে এমন পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

ভারতের নিউক্লিয়ার কমান্ড অথরিটির কাঠামোর অধীনে স্ট্র্যাটেজিক ফোর্সেস কমান্ড পরীক্ষাটি পরিচালনা করে। কারিগরি ও লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO)।

বিশেষ গুরুত্বের বিষয় হলো, উৎপাদিত ক্ষেপণাস্ত্রের লট থেকে এলোমেলোভাবে একটি অগ্নি-৪ বেছে নিয়ে এই পরীক্ষা চালানো হয়। এতে নিয়ন্ত্রিত গবেষণাগারভিত্তিক পরীক্ষার বাইরে সেনাবাহিনীর হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা, পরিবহন ও উৎক্ষেপণকারী দলের বাস্তব প্রস্তুতিও যাচাই হয়েছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটির সব অপারেশনাল ও কারিগরি বৈশিষ্ট্য সফলভাবে যাচাই করা হয়েছে। দুই ধাপের কঠিন জ্বালানিচালিত এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ, উড্ডয়ন, নির্দেশনা, ধাপ বিচ্ছিন্নকরণ এবং বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের ধাপগুলো নির্ধারিত মান অনুযায়ী সম্পন্ন করেছে।

অগ্নি-৪-কে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করে ভারত। তবে ৪ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লার কারণে আন্তর্জাতিক প্রচলিত শ্রেণিবিন্যাসে এটি মধ্যবর্তী পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায়ও পড়ে।

পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সম্ভাব্য মোতায়েন এলাকা থেকে অগ্নি-৪ ক্ষেপণাস্ত্র চীনের মূল ভূখণ্ডের বড় অংশ এবং পাকিস্তানের পুরো ভূখণ্ডে আঘাত হানতে পারবে। ফলে দীর্ঘ পাল্লার অগ্নি-৫-এর পাশাপাশি ভারতের হাতে প্রতিশোধমূলক হামলার আরও একটি বিকল্প রয়েছে।

ভারতের অগ্নি-২ ও অগ্নি-৩-এর মতো স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং আরও দীর্ঘ পাল্লার প্ল্যাটফর্মের মাঝামাঝি অবস্থান করছে অগ্নি-৪। সড়কপথে সরানো ও মোতায়েনযোগ্য হওয়ায় এর টিকে থাকার সক্ষমতাও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরজুড়ে ২ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের বেশি বিস্তৃত একটি বিমান চলাচল সতর্কতা জারি করেছিল ভারত। পরে এর সীমানা প্রায় ৩ হাজার ৭৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়। ভারতের এমন পদক্ষেপের মাধ্যমে হয়ত দীর্ঘপাল্লার কোনো ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করতে যাচ্ছে বলে ধারণা করে সামরিক বিশেষজ্ঞরা। অগ্নি-৪ পরীক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বিশেষজ্ঞদের ধারণাই সত্য হয়েছে।