আপন ঘরে পরবাসী নাজমুস সাকিব

একই দিনে দুই রকম অভিজ্ঞতার স্বাদ পেলেন নাজমুস সাকিব। মালয়েশিয়া জাতীয় দলের এ ক্রিকেটারের জন্য গতকাল যেমন গৌরবের দিন ছিল, ঠিক তেমনি কিছুটা আক্ষেপও মিশে রইল সেখানে। খুলনায় জন্ম নেওয়া সাকিব একসময় স্বপ্ন দেখেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলার। দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের শীর্ষ পর্যায়েও অংশ নিয়েছেন তিনি। তবে তার ভাগ্য যেন অন্যরকম এক অঙ্ক মিলিয়ে রেখেছিল।

মালয়েশিয়ার জার্সি গায়ে জড়ান সাকিব। দেশটির হয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন এ ব্যাটার। গতকাল মিরপুরে খেলতেও নামলেন। তবে গ্যালারিতে পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের সামনে এই স্মরণীয় মুহূর্তটা রাঙাতে পারেননি। আপন ঘরে পরবাসী হওয়া এ ব্যাটার শূন্য রানে আউট হন। তার দলও বাংলাদেশ ইমার্জিংয়ের কাছে ৮৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়েছে।

ম্যাচশেষে দেশ রূপান্তরকে সাকিব বলেন, ‘নিজ দেশের মাটিতে এভাবে খেলতে পারা আমার জন্য অসাধারণ অনুভূতির। তবে খারাপ লাগছে যে বড় ইনিংস খেলতে পারলাম না। আশা করি সামনে সেটি করতে পারব।’

ইমার্জিংয়ের দেওয়া ১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় মালয়েশিয়ার হয়ে ইনিংস শুরু করতে নামেন সাকিব। কিছুটা যেন স্নায়ুচাপে ভুগছিলেন তিনি। সে জন্য বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার রনির হালকা সুইং হয়ে ভেতরে ঢোকা বলটি তার ব্যাট ফাঁকি দিয়ে স্টাম্প ভেঙে দেয়। ইনিংসের প্রথম বলেই কোনো রান না করে ফেরেন সাকিব। ম্যাচশেষে বলেন, ‘আমি কিছুটা চোট পেয়েছিলাম। এ জন্য পায়ে ব্যান্ডেজ বেঁধে ব্যাটিংয়ে নামি। অস্বস্তি বোধ হওয়ায় মনোযোগ নড়ে যায়। আমি জানতাম, রনি ভাই এমন একটা বল করবেন। তবে আমি প্রতিরোধ করতে পারিনি।’

আরেক ওপেনার আসলাম খান বিন মালিকও আউট হন শূন্য রানে। তিনে নামা আকিল ওয়াহিদ কিছুটা লড়াই করে ২৯ রানের ইনিংস খেলেন। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারান সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত ৬৯ রান তুলে অলআউট হয় দলটি। বাংলাদেশ ইমার্জিংয়ের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন দুই স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল ও রাকিবুল হাসান।

এর আগে অধিনায়ক মেহেরব হোসেন অহীনের সঙ্গে আব্দুল গাফফার সাকলাইনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সৌজন্যে ১৫৮ রান করেন স্বাগতিকরা। যদিও শুরুতেই ওপেনার জিসান আলমের উইকেট হারায় ইমার্জিং। ইনিংস বড় করতে পারেননি আরেক ওপেনার জাওয়াদ আবরারও (২৮)। আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন আরিফুল ইসলাম (১৫), সাব্বির রহমান (১৪)। তাতে মন্থর হয়ে যায় রান তোলার গতি।

তবু স্বাগতিকদের স্কোর দেড়শ ছাড়িয়ে যায় অহীন ও সাকলাইনের ব্যাটে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন অহীন। তার ২২ বলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ৩টি চার ও ২টি ছক্কায়। সাকলাইন ৩টি ছক্কা ও ১টি চারের সাহায্যে ২৬ বলে ৩২ রান করেন।