ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন জোরদার করেছে দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল অভিভাবক সংস্থা কনমেবল। একই সঙ্গে ২০৩০ বিশ্বকাপকে ৬৪ দেশের টুর্নামেন্টে রূপান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি, যেখানে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েতে গ্রুপ পর্বের মোট ১৮টি ম্যাচ আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি ফিফা বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারিকরণের একটি ব্যর্থ চেষ্টার পর ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা ও একাধিক ইউরোপীয় দেশের কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইনফান্তিনো। তবে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবলের পর দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোও সরাসরি ফিফা সভাপতির সমর্থনে এগিয়ে এসেছে।
আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন পৃথক বিবৃতিতে ইনফান্তিনোর অধীনে ফিফার ‘প্রাতিষ্ঠানিক স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও সুশাসন’-এর প্রশংসা করেছে। যদিও ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি সামিদ জাউর এই বেসরকারিকরণ উদ্যোগের বিরোধিতা করেছিলেন, তবুও কনমেবল সার্বিকভাবে ফিফা সভাপতিকে সমর্থন জোগানোর কৌশল গ্রহণ করেছে। ২০৩০ সালের শতবর্ষী বিশ্বকাপটি যৌথভাবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোতে আয়োজনের কথা রয়েছে। তবে প্রথম বিশ্বকাপ (১৯৩০) আয়োজনের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রাথমিক পরিকল্পনায় উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে কেবল ১টি করে মোট ৩টি ম্যাচ আয়োজনের কথা বলা হয়েছিল।
কনমেবলের প্রস্তাবিত নতুন পরিকল্পনা : ২০২৬ সালের ৪৮ দলীয় বিন্যাস থেকে বাড়িয়ে ৬৪ দলে উন্নীত করা। আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে এবং প্যারাগুয়ে প্রতিটি দেশ ৬টি করে ম্যাচ আয়োজন করবে, অর্থাৎ গ্রুপ পর্বের পুরো একটি অংশ (মোট ১৮টি ম্যাচ) লাতিন আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হবে। মূল আয়োজক হিসেবে বাকি সব ম্যাচ আয়োজন করবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো।
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লাউডিও তাপিয়া জানান, ‘প্রথম বিশ্বকাপের ১০০ বছর পূর্তিকে সঠিকভাবে সম্মান জানাতে আমরা কাজ করছি। ৬৪ দলের টুর্নামেন্ট হলে আমরা দক্ষিণ আমেরিকায় পুরো একটি গ্রুপ পর্ব নিশ্চিত করতে পারব।’
বিশ্বকাপ সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রি নিয়ে উদ্ভূত বিতর্কের কারণে ইউরোপের অনেক দেশ ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে তারা আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা নির্বাচনে ইনফান্তিনোকে ভোট দেবে না। এই পরিস্থিতিতে আফ্রিকার পাশাপাশি লাতিন আমেরিকার এই শক্তিশালী সমর্থন ইনফান্তিনোর পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।