বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনে রবিবার (৯ আগস্ট) সারাদেশের আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সকালে উদ্বো্ধন হয়েছে দিবসের।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের উদ্যোগে অনুষ্ঠেয় দিবসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে যোগ দিতে সারাদেশ থেকে বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠি নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী সাজ-পোশাকে সমবেত হয়েছেন। তারা নেচে-গেয়ে জানিয়ে দিচ্ছেন, ‘দিবসটি আমাদের!’ 

পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং সমতলের বৃহত্তর সিলেট, ময়মনসিংহ ও উত্তরবঙ্গ এলাকায় দিবসটি পালনে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বিভিন্ন আদিবাসী, সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠন।

 

এবারের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য হলো- ‘আদিবাসী জীবন ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সুরক্ষায় এগিয়ে আসুন’। এর মাধ্যমে আদিবাসী ধাত্রীদের অবদান এবং তাদের ঐতিহ্যগত স্বাস্থ্য-জ্ঞানকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে।

জাতিসংঘের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আদিবাসী অধিকারবিষয়ক ঘোষণাপত্র তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক চর্চা ও প্রতিষ্ঠান বজায় রাখার অধিকারকে নিশ্চিত করে। এছাড়া, ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসে আদিবাসীদের প্রথাগত ধাত্রীসেবার স্বীকৃতি প্রদান, বৈষম্য নিরসন এবং ঐতিহ্যগত স্বাস্থ্যসেবা ও জ্ঞানপদ্ধতি সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সংরক্ষণ এবং তাদের জীবন-জীবিকার নানা সংকট সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতি বছর ৯ আগস্ট এই দিবসটি পালিত হয়। ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘ ৯ আগস্টকে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দিবসটি কেবল সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উদযাপনের বিষয় নয়; বরং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি অধিকার, সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নারীর অধিকার, ঐতিহ্যগত জ্ঞান এবং নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এই দিবসের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।