মধ্যপ্রাচ্যসহ সামগ্রিক মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তার স্বার্থে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এবার একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এক বিস্ফোরক বক্তব্যে বলেছেন, ইসরায়েল কেবল একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের জন্য নয়, বরং পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্য এক বড় হুমকি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি সব মুসলিম দেশকে ভেদাভেদ ভুলে একটি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ সামরিক জোট গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন।
সম্প্রতি একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী তার এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। লক্ষণীয় বিষয় হলো, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে ঐতিহাসিক একটি ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরদিনই তার এই জোরালো বক্তব্য সামনে এলো। কৌশলগতভাবে এই তিন দেশের সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পরপরই খাজা আসিফের এই হুঙ্কার নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে খাজা আসিফ জানান, ১৯১৭ সালের বিতর্কিত ব্রিটিশ বালফোর ঘোষণার ফসল হলো আজকের ইসরায়েল। একটি ভিত্তিহীন ঘোষণার ওপর ভর করে গড়ে ওঠা এই দেশটি দীর্ঘ দিন ধরে এই অঞ্চলের সার্বভৌমত্বের জন্য সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করে আসছে। ফলে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে মুসলিম দেশগুলোর একত্র হওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলেও মনে করেন তিনি।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা ক্ষমতার পরিবর্তন নিয়েও নিজেদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি বছরের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হেরে গেলেও ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতির খুব একটা হেরফের হবে না। জেরুজালেমের মসনদে নাফতালি বেনেট আসুক কিংবা অন্য কেউ- তাদের মনোভাব একই থাকবে। এর আগেও ইসরায়েলকে ‘মানবতার অভিশাপ’ এবং ‘ক্যানসার’ হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্বমঞ্চে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন খাজা আসিফ।