শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের প্রথম সংগঠনের সভাপতি কুশল মেন্ডিস 

প্রায় দেড়শ বছরের সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং শতবর্ষী প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের ঐতিহ্য থাকলেও পেশাদার ক্রিকেটারদের প্রতিনিধিত্ব করার মতো নিজস্ব কোনো আনুষ্ঠানিক ও বোর্ডস্বীকৃত প্ল্যাটফর্ম ছিল না শ্রীলঙ্কায়। অবশেষে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ‘শ্রীলঙ্কান প্রফেশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (এসএলপিসিএ)। আর এই নবগঠিত সংগঠনের প্রথম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন দেশটির টেস্ট ও সাদা বলের অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস।

দেশের ক্রিকেটের এই ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে পুরুষ দলের তারকা অলরাউন্ডার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা এবং নারী দলের অভিজ্ঞ অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুর মতো শীর্ষস্থানীয় তারকারাও এই উদ্যোগের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছেন।

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি) যখন একটি সরকারিভাবে নিযুক্ত অন্তর্বর্তীকালীন ‘ট্রান্সফরমেশন কমিটি’ বা রূপান্তর কমিটির অধীনে ব্যাপক প্রশাসনিক সংস্কার ও ঘরোয়া কাঠামোর আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই ক্রিকেটারদের এই স্বাধীন কণ্ঠস্বর গড়ে তোলার বিষয়টি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

ভারত (বিসিসিআই) ও পাকিস্তানের (পিসিবি) মতো শ্রীলঙ্কাও এতদিন বিশ্ব পেশাদার ক্রিকেটারদের সংগঠন, ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউসিএ) সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তিতে বা অধিভুক্তিতে ছিল না। তবে শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটারদের এই সংগঠন সরাসরি ডব্লিউসিএর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে এখন থেকে লঙ্কান ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়-অধিকার, কল্যাণমূলক সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং বৈশ্বিক নানা সুযোগ-সুবিধা কাঠামোগতভাবে উপভোগ করতে পারবেন। এমনকি চলতি বছরই চামারি আতাপাত্তুকে ডব্লিউসিএর প্লেয়ার অ্যাডভাইজরি বোর্ডে যুক্ত করার মাধ্যমে বিশ্ব ক্রিকেটের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই যোগাযোগের ভিত আগেই রচিত হয়েছিল।

অতীতে ২০০১ সাল থেকে ‘শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন’ নামে একটি সংগঠনের অস্তিত্ব মাঝেমধ্যে দেখা গেলেও, সেটি মূলত সাবেক ক্রিকেটারদের দ্বারা পরিচালিত হতো এবং সমালোচকদের মতে সেটি বোর্ডের প্রভাবমুক্ত ছিল না। তবে এবারের ক্রিকেটারদের সংগঠন সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটি পরিচালনা করছেন বর্তমান জাতীয় দলের সক্রিয় খেলোয়াড় ও অধিনায়করা। এছাড়া শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট ইতিহাসের এই প্রথমবার পুরুষ ও নারী ক্রিকেট দল সম্পূর্ণ সমান অধিকার ও মর্যাদার ভিত্তিতে এই সংগঠনের রূপরেখায় স্থান পেয়েছে।

সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক সূচনা ও এর লক্ষ্য নিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ‘দেশজুড়ে ধারাবাহিক ইতিবাচক অগ্রগতি ও সংস্কারের পর শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটের জন্য একটি যুগান্তকারী সময়ে এসএলপিসিএ গঠিত হলো। এর মধ্যে রয়েছে ক্রিকেটের রূপান্তর কমিটির শাসনব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং ঘরোয়া কাঠামোর আধুনিকীকরণের কাজ।’ 

অতীতে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার জন্য অনাপত্তিপত্র বা এনওসি পাওয়া এবং বাধ্যতামূলক ফিটনেস টেস্টের মতো বিষয়গুলো নিয়ে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রায়শই টানাপোড়েন ও বিরোধ দেখা দিতো। নবগঠিত এই কেন্দ্রীয় সংস্থাটি এখন থেকে খেলোয়াড় ও বোর্ডের মধ্যকার পেশাদার ও প্রশাসনিক দ্বন্দ্বগুলো আলোচনার মাধ্যমে সৌহার্দ্যপূর্ণ উপায়ে সমাধান করতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।

সংগঠনটির আত্মপ্রকাশের পর নবনিযুক্ত সভাপতি কুশল মেন্ডিস বলেন, ‘আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়দের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য এসএলপিসিএ প্রতিষ্ঠা করতে পেরে গর্বিত এবং ক্রিকেট যেভাবে এগিয়ে চলেছে, তাতে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড, রূপান্তর কমিটি ও অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে গঠনমূলক ও সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করার জন্য আমরা উন্মুখ হয়ে আছি।’