তরুণ নারী নেতৃত্বে বিনিয়োগের আহ্বান জুবাইদা রহমানের

তরুণ নারী নেতৃত্বের বিকাশ ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে 'শি লিডস টুমোরো' শীর্ষক জাতীয় অনুষ্ঠান। জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়, ইউএন উইমেন ও ইউএনওপিএস বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে রবিবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।  

প্রান্তিক নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব বিষয়ক প্রকল্পের জাতীয় প্রচার ও সমাপনী অনুষ্ঠান হিসেবে আয়োজিত এ কর্মসূচি যৌথ এসডিজি ফান্ডের সহায়তায় বাস্তবায়িত হয়েছে। প্রকল্পটির আওতায় ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর সরকারি স্কুল, মাদ্রাসা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর এক হাজারের বেশি কিশোরী ও তরুণীকে নেতৃত্ব বিকাশ, নাগরিক সম্পৃক্ততা ও নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. এস এম আবদুল আওয়াল।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান তরুণীদের অর্জনের প্রশংসা করে বলেন, তরুণ নারীদের নেতৃত্বের সুযোগ দেওয়া হলে তারা শুধু নিজেদের সম্প্রদায় নয়, দেশের ভবিষ্যৎকেও শক্তিশালী করতে পারে। আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তরুণ নারীদের কণ্ঠ, চিন্তা ও নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) স্থানীয়করণের অর্থ হলো জাতীয় অঙ্গীকারকে স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দেওয়া। এ প্রক্রিয়ায় তরুণ নারীদের সক্রিয় অংশীদার হওয়ার পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণকারী সিদ্ধান্ত ও সমাধান তৈরিতে তাদের ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনিয়াক এসডিজি অর্জনে অংশীদারত্ব ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি উন্নয়ন কার্যক্রমে কাউকে পিছিয়ে না রাখার আহ্বান জানান।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১২ মাসের এ প্রকল্পে নেতৃত্ব বিকাশ, মেন্টরশিপ, নাগরিক শিক্ষা, নীতি সংলাপ ও অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে তরুণীদের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি নাগরিক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাদের অর্থবহ অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা হয়।

প্রকল্পের অন্যতম ফলাফল হিসেবে 'বাংলাদেশ মডেল ফর এসডিজি লোকালাইজেশন' নামে একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ কাঠামো বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো, এসডিজি বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ে মালিকানা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়নে তরুণ নারীদের নেতৃত্বকে আরও কার্যকর করতে কাজে লাগানো যেতে পারে।