হিরোশিমা ও নাগাসাকির পারমাণবিক ট্র্যাজেডি মানব ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কিত অধ্যায়। ১৯৪৫ সালের আগস্টে সেই নজিরবিহীন তেজস্ক্রিয়তার নারকীয় তাণ্ডব থেকে জন্ম নেয় এক অনন্য সাহিত্যধারা—জাপানি ভাষায় যাকে বলা হয় ‘গেনবাকু বুঙ্গাকু’ বা পারমাণবিক বোমা সাহিত্য। বিশ্বসাহিত্য পরিসরে ‘হিরোশিমা সাহিত্য’ নামে সমধিক পরিচিত।
বোমা হামলা পরবর্তী মার্কিন সেন্সরশিপের বাধা পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে সত্যকে তুলে ধরতে আত্মপ্রকাশ ঘটে সাহিত্যের এই বিশেষ ধারার। যেখানে পারমাণবিক বোমার বীভৎসতা, বিকিরণজনিত শারীরিক-মানসিক যন্ত্রণায় ছটফট করা ‘হিবাকুশা’দের (বোমা হামলায় বেঁচে যাওয়া মানুষ) সামাজিক অবহেলা ও বেঁচে থাকার আকুতিই প্রধান উপজীব্য। একই সঙ্গে এতে রয়েছে পারমাণবিক যুদ্ধবিরোধী এক জোরালো আহ্বান।
নোবেলজয়ী সাহিত্যিক কেঞ্জাবুরো ও-র তথ্যবহুল নিবন্ধ হিরোশিমা নোটস, মাসুজি ইবুকির প্রখ্যাত উপন্যাস ব্ল্যাক রেইন, ইয়োকো ওতার প্রত্যক্ষদর্শী বয়ান সিটি অব কর্পসিস এবং কেইজি নাকাজাওয়ার কালজয়ী সিরিজ বেয়ারফুট জেন এই ধারার অসামান্য সংযোজন। বোমার তাণ্ডব সহ্য করে মৃত্যুমুখে লেখা তামিও হারা-র কাব্যিক বিবরণ সামার ফ্লাওয়ার্স আজও পাঠকের হৃদয়ে করুণার আলোড়ন তোলে।
এই সাহিত্যধারার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো ব্যক্তিগত স্মৃতিকে সামষ্টিক ইতিহাসে রূপান্তরিত করা। প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভাষ্য, দিনলিপি, কবিতা, উপন্যাস ও আত্মকথার মধ্য দিয়ে হিরোশিমা সাহিত্য শুধু ধ্বংসের বিবরণই দেয়নি; মানুষের সহমর্মিতা, পুনর্গঠনের অদম্য শক্তি এবং শান্তির আকাঙ্ক্ষাকেও শিল্পের উচ্চতায় প্রতিষ্ঠা করেছে।