সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশ বহাল

সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখানো ও হয়রানি না করতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। ফলে এ আদেশ আপাতত শুধু খায়রুল হকের ক্ষেত্রে বহাল থাকছে।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ আজ রবিবার (৯ আগস্ট) এ আদেশ দেন।

এর আগে পৃথক মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর গত ৩০ মার্চ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আদাবর থানার দুটি হত্যা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এভাবে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর বৈধতা নিয়ে গত ১৩ মে তাঁর ছেলে ও আইনজীবী আশিক উল হক রিট করেন।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ১৭ মে হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। এতে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে এবং লিভ টু আপিল করে। আজ শুনানি শেষে আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন ও লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টে মূল রিটের শুনানি করতে বলেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান চৌধুরী বলেন, খায়রুল হকের অসুস্থতাসহ কিছু পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালত রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করেছেন। সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া তাঁকে গ্রেপ্তার না দেখানো ও হয়রানি না করার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বহাল রয়েছে।

খায়রুল হকের আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন বলেন, হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখে রিটের রুল দ্রুত নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন।

গত বছরের ২৪ জুলাই ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন মামলায় কারাগারে আছেন।

আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন জানান, ছয়টি মামলায় জামিন পাওয়ার পর নতুন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া নিয়ে রিটটি করা হয়। হাইকোর্টের ১৭ মে-এর আদেশের পর আরও তিনটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা নয়টি মামলার মধ্যে আটটিতে তিনি জামিনে আছেন।