বাংলাদেশের নারী ফুটবলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন ব্রিটিশ-নাইজেরিয়ান ফুটবল তারকা অ্যাশলেই প্লামট্রি। কেবল ফুটবলের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে নারী ক্রীড়াবিদদের ক্ষমতায়ন, সামাজিক মেলবন্ধন ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বার্তা নিয়ে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন সৌদি নারী প্রিমিয়ার লিগের এই জনপ্রিয় ডিফেন্ডার।
রোববার (৯ আগস্ট) সকালে ঢাকায় পৌঁছে বাফুফে ভবনে যান প্লামট্রি। সেখানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। বাফুফে সভাপতির পক্ষ থেকে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও লাল-সবুজের জাতীয় নারী ফুটবল দলের একটি বিশেষ জার্সি উপহার দেওয়া হয়। উপহারের জার্সি পেয়ে উচ্ছ্বসিত প্লামট্রি জানান, বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই জার্সি গায়ে জড়িয়ে মাঠে নামতে পারলে তিনি দারুণ আনন্দিত হতেন।
বাফুফে কার্যালয়ে বাংলাদেশ নারী জাতীয় ফুটবল দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ তারকাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও খোলামেলা আলোচনা করেন প্লামট্রি। তাঁর সাথে এই মতবিনিময়ে অংশ নেন আফঈদা খন্দকার, মারিয়া মান্দা, শামসুন্নাহার সিনিয়র ও মনিকা চাকমা।
নিজের সফর নিয়ে প্লামট্রি জানান, মাঠে পেশাদার পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মানুষের সাথে আত্মিক ও সামাজিক যোগাযোগ গড়ে তোলাই তাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়। খেলাধুলা যে ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষকে এক সুতোয় বাঁধার অনন্য এক মাধ্যম, তা-ই তুলে ধরেন তিনি। নিজের দ্বৈত নাগরিকত্বের (ব্রিটিশ ও নাইজেরিয়ান) কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশি নারী ফুটবলারদের জীবনযাত্রা, সংগ্রাম ও সংস্কৃতির কথা সরাসরি তাদের মুখ থেকেই জানতে চান তিনি।
নারী ফুটবলারদের ভেতরে আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে দেওয়ার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নিজের চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন প্লামট্রি। চলতি বছরের শুরুতে নাইজেরিয়ার লাগোসে ২৫০ জন কিশোরীকে নিয়ে একটি ফুটবল ক্যাম্প পরিচালনা করেছিলেন তিনি। প্লামট্রি জানান, ফুটবলের বাইরের সাধারণ কথোপকথনগুলো থেকেই তিনি ও তরুণীরা সবচেয়ে বড় জীবনের শিক্ষা পেয়েছিলেন।
বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের ইউরোপের পেশাদার লিগে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে বাস্তবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেন এই সৌদি প্রিমিয়ার লিগ তারকা। তার মতে, হঠাৎ করেই এটা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন: দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও সময়, পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও বড় ধরনের বিনিয়োগ, আধুনিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সমাজে নারী ফুটবল নিয়ে মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন।
সৌদি আরবের নারী ফুটবলের দৃষ্টান্ত টেনে তিনি বলেন, কয়েক বছর আগেও সেখানে নারীদের জন্য উন্মুক্ত ফুটবলের অবকাঠামো ছিল না। কিন্তু সঠিক কৌশলগত বিনিয়োগ এবং বিশ্বমানের বিদেশি ফুটবলার নিয়ে আসার কারণে দেশটির নারী ফুটবল দৃশ্যপট দ্রুত বদলে গেছে। বাংলাদেশেও যদি সঠিকভাবে বিনিয়োগ করা হয় এবং খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল ও লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হয়, তবে প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত ও বড় সাফল্য আসা সম্ভব।
বাফুফে ও দেশের ফুটবলপ্রেমীদের উদ্দেশে প্লামট্রি বলেন, বাংলাদেশি নারী ফুটবলারদের যোগ্যতার কোনো নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া উচিত নয়। উপযুক্ত সুযোগ ও সার্বিক সমর্থন পেলে এই মেয়েরাই বিশ্বমঞ্চে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেবে।