রক্তখেকো বাদুড় পৃথিবীর একমাত্র স্তন্যপায়ী প্রাণী, যারা বেঁচে থাকার জন্য রক্তের ওপর নির্ভর করে। এরা গবাদিপশু বা পাখির শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করে। বিশ্বে ১,৪০০-এর বেশি প্রজাতির বাদুড় থাকলেও, রক্তখেকো বাদুড় ৩ প্রজাতির। মূলত এরা মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার ক্রান্তীয় অঞ্চলে বাস করে। এদের নাকে বিশেষ হিট সেন্সর থাকায় শিকারের শরীরের উষ্ণ রক্তগন্ধ সহজে খুঁজে পায়। এসব বাদুড়ের সামনের দাঁতগুলো ধারালো। ফলে শিকারের চামড়া তারা এমনভাবে কাটে, সেই প্রাণী টেরই পায় না। এদের লালায় ‘ড্রাকুলিন’ নামের বিশেষ এনজাইম রয়েছে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। ফলে অনায়াসে জিহ্বা দিয়ে রক্ত চেটে খেতে পারে। টানা দুরাত খাবার না পেলে তারা মারা যেতে পারে। রক্ত খাওয়ার সময় ওদের মাধ্যমে গরু এবং অনেক প্রাণীর মধ্যে ‘র্যাবিস’ বা ‘জলাতঙ্ক’ রোগ ছড়ায়। দলের কোনো বাদুড় খাবার না পেলে, অন্য পেটভর্তি বাদুড় মুখ থেকে রক্ত উগড়ে তাকে খাওয়ায়। তারা সাধারণত গরু, ছাগল, ঘোড়া, শূকর ইত্যাদি প্রাণীর রক্ত খায়। তবে সুযোগ পেলে মানুষের রক্তও খায়। শিশু বাদুড় রক্ত নয়, মায়ের দুধ খেয়ে বেড়ে ওঠে। এদের লালা থেকে তৈরি ‘ড্রাকুলিন’ প্রোটিন মানুষের স্ট্রোকের চিকিৎসায় ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তারা প্রাণঘাতী নয়। বন্য পরিবেশে রক্তচোষা বাদুড়ের জীবনকাল ৮ থেকে ১২ বছর। তবে বন্দিদশা বা খাঁচার উপযুক্ত যতেœ প্রায় ২০ বছর বা বেশি বাঁচতে পারে।