এসএসসিতে পাশের হার ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

একসময় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী পাস করত। তবে গত কয়েক বছরে সেই চিত্র বদলেছে। ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার নেমে এসেছে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশে। গত ১৯ বছরের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন পাসের হার। অর্থাৎ এবার প্রতি ১০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৩৮ জনই পাস করতে পারেননি।

আজ সোমবার (১০ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ফল প্রকাশ করেন। এর মধ্য দিয়ে প্রায় ১৮ লাখ শিক্ষার্থীর দীর্ঘ আড়াই মাসের অপেক্ষার অবসান হয়।

৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

এবার সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে উত্তীর্ণ ছাত্রের চেয়ে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৮২ জন বেশি ছাত্রী পাস করেছে। একইভাবে ছাত্রদের তুলনায় ১১ হাজার ৪০১ জন বেশি ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

দুই বছরে পাসের হার কমেছে ২০ শতাংশের বেশি
২০২৫ সালে সব শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে পাসের হার ছিল ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ওই ফলাফলও গত ১৮ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ছিল। এক বছরের ব্যবধানে এবার সেই রেকর্ডও ভেঙে গেছে। এবার পাসের হার কমেছে আরও ৬ দশমিক ২০ শতাংশীয় পয়েন্ট।

গত এক যুগের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে পাসের হারের ওঠানামার চিত্রটি স্পষ্ট হয়। ২০১৪ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৯১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। পরের বছর তা কমে ৮৭ দশমিক ০৪ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০১৬ সালে কিছুটা বেড়ে ৮৮ দশমিক ২৯ শতাংশ হলেও ২০১৭ সালে আবার কমে হয় ৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ২০১৮ সালে পাসের হার আরও কমে দাঁড়ায় ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশে।

২০১৯ সালে পাসের হার বেড়ে ৮২ দশমিক ২০ শতাংশ হয়। ২০২০ সালে তা ছিল ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

এরপর করোনাভাইরাস মহামারির কারণে পরীক্ষার পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসে। ২০২১ সালে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়া হয়। ওই বছর পাসের হার ছিল ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ের সর্বোচ্চ। বিশেষ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা হওয়ায় ওই বছরের ফল স্বাভাবিক সময়ের ফলাফলের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা কঠিন।

২০২২ সালে পাসের হার কমে ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২৩ সালে তা আরও কমে হয় ৮০ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ২০২৪ সালে পূর্ণ নম্বর ও পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে পরীক্ষা নেওয়ার পর পাসের হার কিছুটা বেড়ে ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ হয়।

তবে ২০২৫ সালে বড় ধরনের পতন ঘটে। ওই বছর পাসের হার নেমে আসে ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশে। ২০২৪ সালের তুলনায় এক বছরে পাসের হার কমে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এবার তা আরও কমে ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ হয়েছে।

অর্থাৎ ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে মাত্র দুই বছরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার কমেছে ২০ দশমিক ৭৯ শতাংশ পয়েন্ট। আর ২০১৪ সালের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ২৯ দশমিক ০৯ শতাংশ পয়েন্ট।

কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও
পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাতেও ধারাবাহিক পতন দেখা যাচ্ছে। ২০২২ সালে রেকর্ড ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা কমে হয় ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫৭৮। ২০২৪ সালে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮২ হাজার ১২৯।

গত বছর এ সংখ্যা আরও কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২-এ। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।

ফলে এবারের ফলাফলে দুটি বিষয় স্পষ্ট-পাসের হার যেমন ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, তেমনি জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও কয়েক বছর ধরে কমছে। এই প্রবণতা পরীক্ষার মূল্যায়নপদ্ধতি, প্রশ্নের ধরন, পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে ফিরে আসা এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।