মার্কিন বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল থাকায় ভোক্তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা কমেছে। এ পরিস্থিতিতে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধের মাধ্যমে চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১০ আগস্ট) মার্কিন বার্তা সংস্থা সিএনএন এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।
ইরানকে কোনো চুক্তিতে রাজি করাতে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর বদলে অর্থনৈতিক চাপের ওপরই যুক্তরাষ্ট্র জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
রবিবার (৯ আগস্ট) অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিষয়টি আপাতত কম গুরুত্ব দিয়ে এগোচ্ছি।’ কয়েক মাসের সংঘাতের পর ওয়াশিংটন এখন আরও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ‘আংশিকভাবে আলোচনা’ চালাচ্ছে এবং একই সঙ্গে যুদ্ধের কারণে ইরানের অর্থনীতির ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা পর্যবেক্ষণ করছে।
ট্রাম্পের দাবি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও নিজেদের সেনাদের বেতন দিতে সমস্যায় পড়ায় ইরানের আর্থিক পরিস্থিতি ‘খুবই খারাপ’। গত এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা মার্কিন নৌ অবরোধ এই অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে ব্যারেলপ্রতি তেলের দাম ৭৫ ডলারের কিছু বেশি হওয়ায় এর পতন মার্কিন ভোক্তাদের ওপর যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব কমিয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘সব ঠিক হয়ে যাবে। সব সময়ই ঠিক হয়। এটা অনেকটা দাবা খেলার মতো।’
হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে ওমানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনা এখন সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চলতি মাসে জানিয়েছে, আলোচনা ‘চূড়ান্ত’ পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রণালির মধ্য দিয়ে নতুন নৌপথ চালুর জন্য নির্ধারিত স্থানাঙ্ক নিয়ে উভয় পক্ষ একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে।
তবে তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তার ‘আচরণ সংশোধন’ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না। এর মধ্যে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, সামরিক অভিযান বন্ধ এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি রয়েছে।
জুনে হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি কয়েক সপ্তাহ পরই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে ভেঙে যায় এবং আবারও সংঘাত শুরু হয়। এরপর ইরান কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে বিচ্ছিন্নভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে তেহরানের মিত্র ইয়েমেনের হুথিরা গত মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পৃথক নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে গাজা ও লেবাননসহ একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ কমিয়ে আনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টার গতি নিয়ে ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের মধ্যে মতপার্থক্যের ইঙ্গিতও পাওয়া যাচ্ছে।