রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও ১১ দলীয় ঐক্য কেন প্রার্থী দিয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জয়-পরাজয় তাঁদের কাছে মূল বিষয় নয়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য।
সোমবার (১০ আগস্ট) নির্বাচন কমিশন থেকে ১১ দলীয় ঐক্যের মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আমরা নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখানে জয়-পরাজয় বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে, আমরা একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সামনে নিয়ে আসছি।
তিনি বলেন, সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের সর্বস্তরের শাসনব্যবস্থা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ও মর্যাদাপূর্ণ পদ রাষ্ট্রপতির নির্বাচনও যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হয়ে যায়, তাহলে গণতন্ত্রের চর্চা বাধাগ্রস্ত হয়।
হামিদুর রহমান আযাদ দাবি করেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করা হলে ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের আওতায় আসত এবং সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, একদিকে আপনি সংসদ সদস্যকে ভোটাধিকার দিয়েছেন, আবার তাঁর সেই অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রেখেছেন। আপনি বলছেন, পাখির মতো স্বাধীন, কিন্তু হাত-পা বাঁধা।
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সে সময় বিএনপি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল এবং জামায়াত বিএনপিকে সরকার গঠনের সুযোগ দিয়েছিল। ওই সংসদে জামায়াতের ১৮টি ও জাতীয় পার্টির ৩৫টি আসন ছিল। অন্য দলগুলোরও আসন ছিল। সে সময় বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থান নেওয়া হলে পরাজয়ের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এবার বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সেই সম্ভাবনা না থাকলেও ১১ দলীয় ঐক্য কেন প্রার্থী দিয়েছে-এমন প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বিএনপি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেনি-এই বিষয়টি তাঁরা জনগণের সামনে তুলে ধরতে চান।
১১ দলীয় ঐকের প্রার্থী অলি আহমদের রাজনৈতিক ও মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকার কথা তুলে ধরে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তিনি একজন বর্ষীয়ান নেতা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সময়ের একজন সাবসেক্টর কমান্ডার। তিনি চারবার মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
তাঁর দাবি, অলি আহমাদ একজন পিএইচডিধারী, দক্ষ কর্মকর্তা ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তাঁর গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং তাঁকে নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারলে অলি আহমাদ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারতেন। কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় সেই সুযোগ তৈরি হয়নি।
এর আগে সোমবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় থেকে অলি আহমাদের পক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন হামিদুর রহমান আযাদ।
১১ দলীয় ঐকের প্রতিনিধিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। হামিদুর রহমান আযাদ জানান, অলি আহমাদের পক্ষে মনোনয়ন ফরম আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১১টায় দাখিল করা হবে।