সৌদি আরবের রিয়াদে মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরীর কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলার বলে নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ জেলা প্রশাসন।
নওগাঁ জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, নিহত ১৩ জনের মধ্যে আত্রাই উপজেলার উজানপই গ্রামের ফরিদ, উপজেলার ডুবাই গ্রামের শুভ, গন্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, ডুবাই গ্রামের সুমন, গন্ডগোহালী গ্রামের মৃত বজলুর প্রামাণিকের ছেলে মো. কলিমউদ্দিন, গন্ডগোহালী গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মো. মোহন ও মো. সুমন, উপজেলার মো. মিনহাজ, উপজেলার বোয়ালা গ্রামের হৃদয়, উপজেলার নওগাঁ গ্রামের শাহিন, খরস্রোতা গ্রামের আব্দুল জলিল, খরস্রোতা গ্রামের মজনুর ছেলে মজিদুল, সাদনগর গ্রামের সাগর রয়েছেন। নিহতদের প্রত্যেকর বয়স ২৫-৩০ এর মধ্যে।
সোমবার (১০ আগস্ট) আত্রাই উপজেলায় নিহতদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। প্রিয়জনকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছেন বাবা-মা। স্বামীর অকাল মৃত্যুতে সন্তানদের নিয়ে দিশেহারা স্ত্রী। স্বজনদের আহাজারিতে প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীও চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে পুরো পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ধারদেনা আর ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে যারা বুক ভরা আশা নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন, তাদের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং সরকারি সহায়তার জন্য সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন শোকসন্তপ্ত পরিবার ও এলাকাবাসী।
নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম দেশ রুপান্তরকে জানান, গতকাল রবিবার সৌদি আরবের রিয়াদে মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরীর কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনের বাড়ি নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলায়। নিহতের প্রত্যেক পরিবারকে জেলা প্রাশাসনের ত্রান শাখা থেকে ২০ হাজার করে টাকা করে অনুদান প্রদান করা হবে। মন্ত্রণালয় এবং এম্বাসির সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে নিহতদের মরদেহ আনা নেওয়া, ক্ষতিপূরণের জন্য।