ঈশ্বরগঞ্জ

পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধন, ভাঙচুরের অভিযোগ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় দুই লাখ টাকার মাছ নিধন, বসতঘরে হামলা-ভাঙচুর এবং নগদ এক লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের নয়জনের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় উপজেলার সোহাগী ইউনিয়নের বু-কাঁঠালিয়া গ্রামের মো. সুজন মিয়া (৫০) ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে ভুক্তভোগী পরিবার ঈশ্বরগঞ্জ প্রেস ক্লাবে এসে সাংবাদিকদের তাদের দুর্দশার কথা জানান।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট রাত ১০টার দিকে নিজের বাড়ির পশ্চিম পাশে থাকা পুকুরের মাছ দেখে বাড়িতে চলে যান সুজন মিয়া। পরদিন ৬ আগস্ট রাত সোয়া ১২টার দিকে পুকুরের পাড়ে গিয়ে তিনি দেখতে পান, কে বা কারা পুকুরে বিষ প্রয়োগ করেছে। এতে পুকুরে থাকা বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছ মারা যায়। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

সুজন মিয়া অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, পুকুরের জায়গা নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তার বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলমান রয়েছে। মাছ মারা যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তিনি অভিযুক্তদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধভাবে তার বসতবাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় হামলাকারীরা তার চৌচালা টিনের বসতঘরের বেড়া ও দরজা কুপিয়ে এবং ঘরের বাইরের অংশ ভাঙচুর করে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি করেন। 

একপর্যায়ে অভিযুক্ত মো. মোয়াজ্জেমদিন ঘরে প্রবেশ করে সুকেসের ড্রয়ারে রাখা নগদ এক লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন সুজন মিয়া। 

পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে তাদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভয়ে সুজন মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা ডাক-চিৎকার করে বাড়ির বাইরে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দাবি করে ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সুজন মিয়া।

অভিযুক্তরা হলেন— সোহাগী ইউনিয়নের বু-কাঠালিয়া এলাকার মো. সবুজ খাঁ (৫৫), মো. মাহবুব খাঁ (২২), মো. সুজন খাঁ (৩৫), মো. সুলতান খাঁ (৫৫), মো. মতি মিয়া (২৩), মো. শামীম (২১), মো. আবু হেলিম (৬০), মো. আনোয়ার (৪০) ও মো. মোয়াজ্জেমদিন (২৫)।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিপক্ষের সুজন খাঁ। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া। পুকুরটি তাদের নয়। পুকুরের জমির যাবতীয় কাগজপত্র আমাদের নামে রয়েছে। তারা জোরপূর্বক পুকুরটি দখল করতে চায়। তারাই আমাদের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে উল্টো নাটক সাজিয়েছে।’

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আজম বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'