অনূর্ধ্ব-২০ কোচের বেতন ও নিরাপত্তা নাটকে বাফুফের সাফাই

বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দলের হেড কোচ জেরার্ড জোনস তাঁর বেতন বকেয়া থাকা এবং পরবর্তীতে ব্যাংকজনিত জটিলতা নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এমনকি এই পরিস্থিতিতে তিনি নিজের জীবনের নিরাপত্তাহীনতা ও পরিবার চালানো নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) বিষয়টি নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দাবি করেছে, কোচ পুরো বিষয়টি ‘ভুলভাবে উপস্থাপন’ করছেন।

সোমবার সকাল ১১টার দিকে কোচের এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে নাটকের সূত্রপাত হয়। বকেয়া বেতন না পাওয়ার কথা জানিয়ে ফেইসবুক পোস্টে জেরার্ড জোনস লেখেন, “বেতনের জন্য অপেক্ষা করছি। স্ত্রী-সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে টাকা পাঠাতে পারছি না। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন জটিলতা তৈরি হচ্ছে। আমি নিজের জীবন নিয়ে ভীত ও শঙ্কিত।”

দুপুর ১টার দিকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জোনস অত্যন্ত হতাশা প্রকাশ করে জানান, তিনি ছাড়া দলের আরও দুজন সদস্য একই ধরনের বেতন সমস্যায় ভুগছেন। তবে তাদের নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল এক খুদে বার্তায় পুরো ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দেন। বাফুফে সভাপতির ভাষ্য, “আমি পোস্টটি দেখেছি। এটা সত্যি দুঃখজনক, তবে আমি তাঁর বাকস্বাধীনতাকে সম্মান জানাই। দুঃখজনক এই কারণে যে, তিনি পুরো ঘটনাটিকে ভুলভাবে তুলে ধরেছেন। যাই হোক, খুব দ্রুতই এর সমাধান হয়ে যাবে।”

পরবর্তীতে বেলা ২টার দিকে দেওয়া অন্য এক আপডেটে জোনস জানান, তিনি শেষ পর্যন্ত অর্থ হাতে পেয়েছিন, কিন্তু এবার নতুন করে ব্যাংকিং জটিলতায় পড়েছেন। তিনি লেখেন, “টাকা পেয়েছি ঠিকই, কিন্তু এখন ব্যাংকিং সংক্রান্ত নতুন সমস্যা ও জটিলতা দেখা দিয়েছে, যা আগে আমাকে জানানো হয়নি। এছাড়া আমার ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্যের গোপনীয়তা যেভাবে নষ্ট করা হয়েছে, তা নিয়ে আমি মারাত্মক উদ্বিগ্ন।”

বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার জানান, চুক্তি অনুযায়ী তারা জেরার্ড জোনসের বেতন পরিশোধের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, “চুক্তি অনুযায়ী ১০ আগস্টের মধ্যে আমরা তাঁর অ্যাকাউন্টে বেতন জমাদানসহ যাবতীয় ট্যাক্স কেটে রেখে নির্দিষ্ট ডকুমেন্টের অপেক্ষায় ছিলাম, যা কোচের হাতে তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে অন্যত্র টাকা ট্রান্সফার করা আমাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না, তা সম্পূর্ণ জোনসের কাজ।” বাফুফে সাধারণ সম্পাদকের মতে, এখানে বাফুফে টাকা আটকে রাখেনি, বরং মূল সমস্যা তৈরি হয়েছে টাকা ট্রান্সফারসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায়। এই আর্থিক লেনদেনের প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সারতেই বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন জোনস।
জোনস আরও অভিযোগ করেন, অচেনা কিছু লোক তাঁর গাড়ির কাছে এসে টাকা চেয়ে দরজায় ধাক্কাধাক্কি করেছে। পুরো পরিস্থিতিতে তিনি অসহায়, অরক্ষিত ও একাকী বোধ করছেন বলে জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সব সমস্যার সমাধান হবে যাতে তিনি কোনো দুশ্চিন্তা ছাড়া কেবল কাজে মনোযোগ দিতে পারেন।

কোচের নিরাপত্তার বিষয়ে বাফুফে কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না—এমন প্রশ্নে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল জানান, সোশ্যাল মিডিয়ার ওই পোস্টটি তারা উপেক্ষা করবেন। তিনি বলেন, “না, আমরা তাঁর পোস্টটি এড়িয়ে চলব। যদি তাঁর কোনো উদ্বেগ বা নিরাপত্তা সমস্যা থেকে থাকে, তবে তিনি সরাসরি আমাদের জানাতে পারেন।”

২০২৬ সালের ১৩ জুন অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দল ও বয়সভিত্তিক ফুটবলের উন্নয়নে জেরার্ড জোনসকে দুই বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেয় বাফুফে। বর্তমানে তিনি যশোরে অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিচালনা করছেন।