নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মাঠে ফিরছে বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী

ঘরোয়া ফুটবলের দলবদলের শেষ মুহূর্তে বড় স্বস্তির খবর। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে দল গঠনে কার্যত অচলাবস্থায় থাকা দেশের অন্যতম সফল দুই ক্লাব বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী লিমিটেড খুব শিগগিরই মুক্তি পেতে যাচ্ছে। কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং  দুই-এক দিনের মধ্যেই সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে তারা আশাবাদী। একই কথা জানিয়েছেন আবাহনীর ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপুও।

ঘরোয়া ফুটবলের ২০২৬-২৭ মৌসুমের দলবদল ও খেলোয়াড় নিবন্ধনের নির্ধারিত শেষ সময় ১৩ আগস্ট। তার আগে বসুন্ধরা কিংসের ওপর থাকা ফিফার ১২টি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে কাজ করছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। নিষেধাজ্ঞার কারণে এবারের দলবদলে এখন পর্যন্ত অনেকটাই নীরব ছিল গত কয়েক বছরের সবচেয়ে সফল দলটি। যেখানে অন্য ক্লাবগুলো নতুন খেলোয়াড় দলে ভেড়াতে ব্যস্ত, সেখানে কিংসকে কাটাতে হয়েছে অনিশ্চয়তার সময়। মিডিয়াকে ইমরুল হাসান বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা তুলতে আমরা কাজ করছি। বলা যেতে পারে, প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যেই আশা করি সব ঠিক হয়ে যাবে।’

ক্লাবের দুঃসময়ে সমর্থকদের পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদও জানিয়েছেন বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি। নিষেধাজ্ঞার কারণে দলবদলে অংশ নিতে না পারার শঙ্কায় এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় অন্য ক্লাবে চলে গেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, শাহরিয়ার ইমন, সোহেল রানা জুনিয়র, সাদ উদ্দিন ও রিমন হোসেন। ফলে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও আগের দলটিকেই পুরোপুরি ধরে রাখা সম্ভব হবে না কিংসের জন্য।

তবে দলের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ও অভিজ্ঞ ফুটবলার এখনো ক্লাবটির সঙ্গে আছেন। অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মন, জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন, মিডফিল্ডার সোহেল রানা সিনিয়র, ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ এবং গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণদের ধরে রাখতে পেরেছে কিংস। ফলে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে দ্রুত দল গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকছে তাদের সামনে।

ইমরুল হাসানের কথাতেও রয়েছে শক্তিশালী দল গঠনের ইঙ্গিত। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হয়ে দলবদলে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেলে নতুন করে শক্তিশালী স্কোয়াড গড়তে চায় ক্লাবটি। ঘরোয়া ফুটবলে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস তাই এবারও শিরোপার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে, এমন প্রত্যাশাই সমর্থকদের।

তবে শুধু বসুন্ধরা কিংস নয়, ফিফার নিষেধাজ্ঞার তালিকায় এখনো রয়েছে আবাহনী লিমিটেড ও ফকিরেরপুল ইয়ংমেনস ক্লাবও। অবশ্য আবাহনীর নিষেধাজ্ঞাও দ্রুত উঠে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্লাবটির ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই তিন ক্লাবই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দল নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারলে ২০২৬-২৭ মৌসুমের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে অংশ নেবে মোট ১৩টি দল।