লিভারপুল কিনে নিচ্ছেন আমাজনের মালিক ও ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পরাশক্তি লিভারপুল ফুটবল ক্লাবের শেয়ার ক্রয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবেরদের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী কনসোর্টিয়াম। আমাজনের মালিক জেফ বেজোস এবং ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এদুয়ার্দো সাভেরিনকে সঙ্গে নিয়ে এই ক্রয়প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতীয় ইস্পাত ব্যবসায়ী লক্ষ্মী মিত্তালের জামাতা ও কিউপিআরের সাবেক অংশীদার অমিত ভাটিয়া।

চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম ও স্কাই নিউজের তথ্য অনুযায়ী, অমিত ভাটিয়া, বেজোস ও সাভেরিনের এই গ্রুপটি লিভারপুলের আনুমানিক ৩৩ শতাংশ (এক-তৃতীয়াংশ) শেয়ার কিনতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে অলরেডদের বাজারমূল্য গিয়ে ঠেকবে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৪.৫ বিলিয়ন পাউন্ডে।

২০১০ সালের অক্টোবরে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ড দিয়ে লিভারপুল ক্রয় করেছিল বর্তমান মালিক ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ (এফএসজি)। নতুন এই বিনিয়োগ সম্পন্ন হলে এফএসজি তাদের ১৪ বছরের মেয়াদে অভাবনীয় এক আর্থিক সাফল্য ও মুনাফা ঘরে তুলতে পারবে।

তবে এই নতুন বিনিয়োগ ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনায় কীভাবে প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে শুরু হয়েছে নানান জল্পনা-কল্পনা। ধনকুবের জেফ বেজোসের আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ২৮০.৬ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে সিঙ্গাপুরভিত্তিক ব্যবসায়ী সাভেরিনের সম্পদ ৩৩.২ বিলিয়ন ডলারের। এত হেভিওয়েট নাম যুক্ত হওয়ার কথা স্বীকার করে এফএসজিও ইতিবাচক সংকেত দিয়েছে। গত ২৯ জুলাই লিভারপুলের প্রধান নির্বাহী বিলি হোগান নিশ্চিত করেছিলেন যে, অমিত ভাটিয়ার নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়াম থেকে স্ট্র্যাটেজিক মাইনোরিটি ইনভেস্টমেন্টের (সংখ্যালঘিষ্ট শেয়ার কেনা) প্রস্তাব পেয়েছে তারা।
অ্যামাজনের জেফ বেজোস ও অমিত ভাটিয়া

এফএসজির অধীনে অ্যানফিল্ডের দর্শক ধারণক্ষমতা ৬১ হাজারে রূপান্তর, কার্কবিতে আধুনিক ট্রেনিং গ্রাউন্ড তৈরি এবং দুটি প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ সব বড় ট্রফিই জিতেছে লিভারপুল। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে ক্লাব চালানোর পর এফএসজির মূল অংশীদারদের বয়স বেড়ে যাওয়া এবং লিকুইডিটি বা নগদ অর্থের প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় তারা নতুন অংশীদার গ্রহণে রাজি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লিভারপুলের সাবেক প্রধান নির্বাহী পিটার মুর জানিয়েছেন, এফএসজি কর্তারা এখন আর ঘন ঘন ইংল্যান্ডে আসেন না। অমিত ভাটিয়া ফুটবলের অনুরাগী হওয়ায় তিনি কেবল অর্থ বিনিয়োগই করবেন না, বরং অ্যানফিল্ডের দৈনন্দিন পরিচালনা ও গভর্নেন্সে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে মুখিয়ে আছেন। আর এতে ক্লাবটির অর্থনৈতিক ভিত আরও বেশি শক্তিশালী হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।