গুমের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিশনের দাখিল করা দুটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (১০ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদেশ সম্পর্কে রিটকারীর আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আদালত রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। আদালত রিটকারীর ‘লোকাস স্ট্যান্ডাই’ বা মামলা করার আইনি অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, রিটকারীর এ ধরনের জনস্বার্থ মামলা করার মতো আইনি অধিকার নেই।
নওগাঁ সদরের বাসিন্দা নাজনীন পারভীন স্বপ্না হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন।
আবেদনে তিনি দাবি করেন, কমিশনের বিতর্কিত প্রতিবেদনের কারণে তার পরিবারের একজন সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সে কারণে এই রিট দায়ের করার মতো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা ‘লোকাস স্ট্যান্ডাই’ তার রয়েছে।
রিটে সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগের সচিব এবং গুম তদন্ত কমিশনের সভাপতিকে বিবাদী করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে তিন মাসের মধ্যে তদন্তকাজ শেষ করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কমিশন ওই সময়ের মধ্যে তদন্তকাজ শেষ না করে ১৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ও ৪ জুন ২০২৫ তারিখে দুটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন দাখিল করে।
পরে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি কমিশন তাদের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
রিটকারীর মূল যুক্তি ছিল, ১৯৫৬ সালের কমিশন অব ইনকোয়ারি অ্যাক্ট বা কমিশন গঠনের প্রজ্ঞাপনে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩এ ধারার মতো অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন দাখিলের কোনো বিধান বা ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া হয়নি। তাই সম্পূর্ণ এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে দেওয়া ওই দুটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুল জারির আরজি জানানো হয়। পাশাপাশি রিটটি পর্যালোচনার জন্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্র হাই কোর্টে তলব করার আবেদনও করা হয়।
আইনজীবী আজিজুর রহমান জানান, ওই বেঞ্চের প্রিসাইডিং জাজ রুল ইস্যু করার মতো অবস্থানে গেলেও দ্বিতীয় বিচারপতি বিব্রতবোধ করেন এবং বিষয়টি শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এরপর নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হলে তিনি বিচারপতি আহমেদ সোহেলের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করে দেন। সোমবার এই বেঞ্চেই শুনানি শেষে রিটটি খারিজ করে দেন।