নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মাদ্রাসা চত্বর থেকে বিরল প্রজাতির একটি লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করেছেন স্বেচ্ছাসেবীরা।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে উপজেলার একটি গহীন বনে বানরটিকে অবমুক্ত করা হয়।
এর আগে সন্ধ্যার পর উপজেলার সদর ইউনিয়নের ফারংপাড়া এলাকার মাদ্রাসাতুল ইনসাফ মাদ্রাসা চত্বরে বানরটিকে দেখতে পান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। পরে তাঁরা সেটিকে নিরাপদে একটি খাঁচায় রেখে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য এনিমেলস অব সুসংকে খবর দেন।
সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবকেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীটিকে লজ্জাবতী বানর হিসেবে শনাক্ত করেন। পরে সেটি উদ্ধার করে রাতেই দুর্গাপুরের পাহাড়ি বনে অবমুক্ত করা হয়।
মাদ্রাসাতুল ইনসাফের পরিচালক মাহমুদুল হক ফজল বলেন, মাগরিবের নামাজের পর কয়েকজন মাদ্রাসা চত্বরে বসেছিলেন। এ সময় বাউন্ডারি নেটের ওপর অচেনা একটি প্রাণীকে চলাচল করতে দেখে তাঁরা সেটিকে ধরে খাঁচায় রাখেন। পরে স্বেচ্ছাসেবকদের খবর দেওয়া হলে তাঁরা এসে প্রাণীটি লজ্জাবতী বানর বলে জানান।
সেভ দ্য এনিমেলস অব সুসংয়ের সদস্য রাতুল খান রুদ্র বলেন, খবর পাওয়ার পর তাঁরা বানরটি উদ্ধার করে রাতেই পাহাড়ি জঙ্গলে অবমুক্ত করেন। লজ্জাবতী বানর মূলত রাতে খাবারের সন্ধানে চলাচল করে। খাবারের খোঁজে বানরটি কোনোভাবে মাদ্রাসা চত্বরে ঢুকে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাতুল খান আরও বলেন, তাঁদের স্বেচ্ছাসেবকেরা এর আগে প্রায় ১৬টি লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করেছেন। এ ছাড়া প্রায় ৬৫টি উদ্ধার অভিযানে অজগর, মেছো বিড়াল, বনরুইসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে বনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
দুর্গাপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মজনু প্রামাণিক বলেন, লজ্জাবতী বানরটি উদ্ধারের পর স্বেচ্ছাসেবকেরা বন বিভাগকে বিষয়টি জানান। পরে বন বিভাগের দিকনির্দেশনায় প্রাণীটিকে বনে অবমুক্ত করা হয়।