কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নে সুইডেনের সহায়তা চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লিনাস রাগনার উইকস। এ সময় কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নে সুইডেনের সহায়তা চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।  

আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দুই দেশের নিরাপত্তা, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও কারিগরি সহায়তা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সুইডেন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। দক্ষ ও বিশ্বমানের মানবসম্পদ তৈরিতে সরকার কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সুইডেনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি। বিশেষ করে কেয়ারগিভারসহ দক্ষ জনশক্তির চাহিদা ইউরোপের বাজারে বাড়ছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।

সুইডিশ রাষ্ট্রদূত বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শুধু বাংলাদেশের সঙ্গেই সুইডেনের ‘দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কৌশল’ রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে সুইডেনের বাণিজ্যিক সম্পর্কও দিন দিন গভীর হচ্ছে। তৈরি পোশাক ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতে সুইডিশ বিনিয়োগ বাড়ছে। বর্তমানে সুইডেনে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন, যাঁদের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী।

বৈঠকে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে কিছু বাংলাদেশি অনিয়মিত অভিবাসনের শিকার হচ্ছেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে সমন্বয় করে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। রোহিঙ্গা ডোনার গ্রুপের কো-চেয়ার হিসেবে সুইডেনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

সুইডিশ রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের শিক্ষা ও নিরাপত্তায় কাজ করার আগ্রহের কথা জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে সম্মানজনক ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সমাধান।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশে সুইডিশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।