১২ আগস্ট সূর্যগ্রহণ, দেখা যাবে যেসব স্থান থেকে

আগামী বুধবার, ১২ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। কোথাও এটি পূর্ণগ্রাস, আবার কোথাও আংশিক সূর্যগ্রহণ হিসেবে দৃশ্যমান হবে। গ্রহণের ধরন নির্ভর করবে পৃথিবীর কোন অঞ্চলে দর্শক অবস্থান করছেন এবং ওই সময় চাঁদ পৃথিবী থেকে কত দূরে রয়েছে তার ওপর। খবর বিবিসি বাংলার। 

সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করলে এবং চাঁদ সূর্যের পুরো চাকতি ঢেকে ফেললে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হয়। এ সময় দিনের আকাশ অনেকটা ভোর বা গোধূলির মতো অন্ধকার হয়ে আসে। চাঁদের ছায়ার সবচেয়ে ঘন অংশ, অর্থাৎ প্রচ্ছায়ার মধ্যে অবস্থান করা অঞ্চল থেকেই পূর্ণগ্রাস গ্রহণ দেখা যায়।

পূর্ণগ্রাসের সময় সূর্যের চারপাশে কখনো কখনো উজ্জ্বল বলয় দেখা যায়। এটি সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল—করোনা। সূর্যের পৃষ্ঠের তীব্র আলোয় সাধারণ সময়ে করোনাকে খালি চোখে দেখা যায় না।

চাঁদের ছায়ার বাইরের অংশ বা উপচ্ছায়ার মধ্যে থাকা অঞ্চল থেকে দেখা যায় আংশিক সূর্যগ্রহণ। এ সময় চাঁদ সূর্যের একটি অংশ ঢেকে দেয় এবং সূর্যকে অনেকটা অর্ধচন্দ্রাকৃতির দেখায়।

আর চাঁদ পৃথিবী থেকে তুলনামূলক দূরে অবস্থান করার কারণে সূর্যকে পুরোপুরি ঢাকতে না পারলে হয় বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ। তখন চাঁদের চারপাশে সূর্যের উজ্জ্বল একটি বলয় দেখা যায়। চাঁদের কক্ষপথ পুরোপুরি গোল নয়; তাই পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব সবসময় সমান থাকে না। পৃথিবী থেকে দূরে থাকা অবস্থায় চাঁদকে আকাশে তুলনামূলক ছোট দেখায়।

যেসব অঞ্চলে দেখা যাবে পূর্ণগ্রাস

উত্তর রাশিয়া, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং স্পেন ও পর্তুগালের কিছু অংশ থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, সূর্য পুরোপুরি ঢেকে যাওয়ার সময় অর্থাৎ ‘টোটালিটি’ প্রথম দেখা যাবে উত্তর রাশিয়ার একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে, স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে। এরপর গ্রহণের ছায়া পৃথিবীর ওপর দিয়ে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে দিনের শেষ ভাগে স্পেনে পৌঁছাবে। সেখানে সূর্যাস্তের ঠিক আগে পূর্ণগ্রাস গ্রহণ দেখা যেতে পারে।

তবে পূর্ণগ্রাসের স্থায়িত্ব হবে খুবই কম—সর্বোচ্চ আড়াই মিনিটেরও কম।

আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে আরও বিস্তৃত এলাকায়

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চল, কানাডা, উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা এবং ইউরোপের কিছু অংশ থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এসব অঞ্চলের কোনো কোনো জায়গায় সূর্যের ৯০ শতাংশ বা তারও বেশি অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যাবে।

আফ্রিকার কিছু অঞ্চল ও ইউরোপের মূল ভূখণ্ডে গ্রহণটি আরও ব্যতিক্রমী দৃশ্য তৈরি করতে পারে। সেখানে সূর্যাস্তের সময়ও আংশিক গ্রহণ চলতে থাকবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানে এ ঘটনাকে ‘সূর্যাস্ত গ্রহণ’ বলা হয়।

এর বিপরীতে চন্দ্রগ্রহণের সময় পৃথিবী সূর্য ও চাঁদের মাঝখানে অবস্থান করে এবং পৃথিবীর ছায়া চাঁদের ওপর পড়ে। ১২ আগস্টের সূর্যগ্রহণ সরাসরি দেখা সম্ভব না হলেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধারণ করা গ্রহণের ছবি ও ভিডিওতে এই বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করা যাবে।