বিদ্যুৎ সংকটে বরফ উৎপাদন বন্ধ, নামছে না ট্রলার

পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটা এবং দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্যবন্দর মহিপুর-আলীপুরে ইলিশের ভরা মৌসুমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে দেখা দিয়েছে তীব্র বরফ সংকট। বিদ্যুৎ সংকটে বরফকলগুলো স্বাভাবিক উৎপাদন করতে না পারায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে গেছে। এতে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে বরফের দাম। প্রয়োজনীয় বরফ না পাওয়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে শত শত মাছধরা ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না বলে জানিয়েছেন জেলে ও ট্রলার মালিকরা।

মৎস্যবন্দর সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া প্রতিটি ট্রলারের জন্য বিপুল পরিমাণ বরফের প্রয়োজন হয়। সাগরে ধরা মাছ দীর্ঘ সময় সতেজ রাখতে এবং ঘাটে নিয়ে আসতে বরফ অপরিহার্য। কিন্তু বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বরফ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় মহিপুর ও আলীপুর মৎস্যবন্দরের বাজারে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। ফলে একদিকে বেড়েছে বরফের দাম, অন্যদিকে বাড়তি দাম দিয়েও প্রয়োজন অনুযায়ী বরফ পাওয়া যাচ্ছে না।’

ট্রলার মাঝি কামাল বেপারি বলেন, ‘আগে যে বরফের ক্যান ১৫০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেটি ৩০০ টাকা দিয়েও কিনতে হচ্ছে। তারপরও প্রয়োজন অনুযায়ী বরফ পাওয়া যাচ্ছে না। বরফ ছাড়া সাগরে মাছ ধরতে গেলে ধরা মাছ সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে না। তাই অনেক ট্রলার ঘাটেই পড়ে আছে।

ট্রলার মালিক মিজানুর রহমান বলেন, ‘এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। এই সময়ে ট্রলার সাগরে পাঠাতে না পারলে মালিক, জেলে ও ব্যবসায়ী সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বরফ সংকটের কারণে শত শত ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে মৎস্য খাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

জেলেরা জানান, বরফ সংকটের কারণে শুধু সাগরে মাছ ধরাই ব্যাহত হচ্ছে না, এর প্রভাব পড়ছে পুরো মৎস্যবন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে। ট্রলার মালিক, মাঝি, জেলে, আড়তদার, মাছ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকসহ হাজারো মানুষ এ সংকটের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ইলিশের মৌসুমে এমন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে মৎস্যবন্দর এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন তারা।

কুয়াকাটা পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মোস্তফা আমিনুর রাশেদ বলেন, মহিপুর মৎস্যবন্দরে প্রায় ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। এর বিপরীতে বর্তমানে প্রায় ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ দিয়ে দৈনিক সর্বোচ্চ প্রায় ৮ ঘণ্টা সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। বাকি সময় সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে। এ অবস্থার পরিবর্তন কবে নাগাদ হবে, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

মৎস্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইলিশের ভরা মৌসুমে বরফ সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে মাছ আহরণ, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায়। এতে জেলে থেকে শুরু করে মৎস্য ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করে বরফকলগুলোতে উৎপাদন বাড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।