পিকেকে যোদ্ধাদের ক্ষমা করবে তুরস্ক

কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সঙ্গে শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে তুরস্কের ক্ষমতাসীন জোট এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। তুরস্কের আইনপ্রণেতারা পিকেকের হাজার হাজার সদস্যকে শর্তসাপেক্ষে ক্ষমা করার একটি আইনে অনুমোদন দিয়েছেন। গত সোমবার পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে ৪৬৮টি ভোট পক্ষে, ৮৮টি বিপক্ষে এবং ছয়জনের ভোটদানে বিরত থাকার মধ্য দিয়ে প্রস্তাবটি পাস হয়েছে। এতে সম্পূর্ণ সাধারণ ক্ষমা না দিয়েই অস্ত্র সমর্পণকারী পিকেকে যোদ্ধাদের একটি উল্লেখযোগ্য-সংখ্যককে বেসামরিক জীবনে ফেরার সুযোগ রাখা হয়েছে। পিকেকের কারাবন্দি প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ ওজালান তার অনুসারীদের নিরস্ত্র হওয়ার আহ্বান জানানোর ১৮ মাস পর এ ঘোষণা এলো। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ক্ষমতাসীন একে পার্টি, তাদের জাতীয়তাবাদী মিত্র ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টি (এমএইচপি) এবং কুর্দিপন্থি ডিইএম পার্টির সমর্থনে আইনটি পাস হয়।

সংঘাত নিরসনে তুরস্কের এটিই প্রথম আইনগত পদক্ষেপ। প্রস্তাব অনুযায়ী, পিকেকের সাবেক যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত ও সাজা কার্যকর পাঁচ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হতে পারে। ওই সময়ের মধ্যে নতুন অপরাধ না হলে মামলাগুলো বন্ধ এবং সাজা শেষ হয়েছে বলে বিবেচনা করা হবে। কার্যত এটি সাধারণ ক্ষমার মতো সুযোগ তৈরি করতে পারে। আইনপ্রণেতারা বলেছেন, এই পদক্ষেপের প্রাথমিক পর্যায়ে পিকেকে-সংশ্লিষ্ট প্রায় ৩ হাজার ৫০০ বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের তালিকায় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে থাকা পিকেকে ১৯৮৪ সালে তুরস্কের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে। দীর্ঘ এই সংঘাতে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। সংঘাতের কারণে তুরস্কের প্রধানত কুর্দি-অধ্যুষিত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ে। একই সঙ্গে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনও গভীর হয়েছে।

পিকেকে বিলুপ্তির পর সংগঠনটির হাজার হাজার সদস্যের কী হবে শান্তি প্রক্রিয়ায় এটিই ছিল অন্যতম বড় প্রশ্ন। নতুন আইনটি মূলত নিরস্ত্রীকরণ ও পিকেকের সদস্যদের সমাজে পুনর্বাসনে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে করা হয়েছে। কারাবন্দি নেতা ওজালানের অস্ত্র সমর্পণের ঘোষণার তিন মাস পর পিকেকে জানায়, তারা সংগঠনটি ভেঙে দেবে। তবে নতুন আইনটি কুর্দিদের বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার, সন্ত্রাসবিরোধী আইন পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান করছে না। তুরস্কের সরকার এই উদ্যোগকে ‘সন্ত্রাসমুক্ত তুরস্ক’ গড়ার লক্ষ্যের অংশ হিসেবে দেখছে। কুর্দি রাজনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে হলে আরও বিস্তৃত গণতান্ত্রিক ও আইনি সংস্কার প্রয়োজন।