ফের আন্দোলনে নামছে ককরোচ পার্টি

ভারতের গ্রামীণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত সংকট ও দীর্ঘদিনের অবহেলা দূর করতে দেশজুড়ে বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আগামী ১৫ আগস্ট থেকে ‘সরপঞ্চ চ্যালেঞ্জ’ নামে এ কর্মসূচি শুরু করার কথা জানিয়েছে অনলাইনভিত্তিক দলটি। গত সোমবার এক বার্তায় দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে দেশের নাগরিক, অভিভাবক ও গ্রামের প্রধানদের (সরপঞ্চ) নিজ নিজ এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার নিজ গ্রামের সরপঞ্চের সঙ্গে দেখা করে স্কুলের পরিবেশ উন্নয়নের অনুরোধ জানানোর মধ্য দিয়ে তিনি কর্মসূচির সূচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।

গ্রামের স্কুলগুলোর দুরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিজিৎ বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরও অনেক গ্রামের শিশুকে স্কুলে যেতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নেই পর্যাপ্ত পানীয় জল ও সচল শৌচাগার। এতে বিশেষ করে ছাত্রীদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়। শহরের শিশুদের মতো কৃষক ও শ্রমিক পরিবারের সন্তানদেরও মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। দীপকে প্রশ্ন রাখেন আমরা নতুন পার্লামেন্ট ভবন তৈরি করেছি, প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন বাসভবন বানিয়েছি; কিন্তু গ্রামে নতুন স্কুল তৈরি করতে পারলাম না কেন? কৃষক ও শ্রমিকের সন্তানদের কি আমরা দেশের ভবিষ্যৎ মনে করি না? যেসব সরপঞ্চ স্কুলের উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেবেন, তাদের ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে সম্মাননা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সিজেপির।

পাশাপাশি অভিভাবকদের মাধ্যমে সরকারি স্কুলগুলোতে সামাজিক নিরীক্ষার বা সোশ্যাল অডিটের ডাক দিয়েছে দলটি। অভিভাবক এবং সাধারণ নাগরিকদের নিজ নিজ গ্রামের স্কুলে গিয়ে বিদ্যুৎ, সুপেয় পানি, সচল শৌচাগার ও মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা আছে কি না তা পরখ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সুবিধা না থাকলে তার ভিডিও ধারণ এবং সিজেপি প্রকাশিত একটি নির্দিষ্ট ‘অডিট ফর্ম’ পূরণ করে প্রমাণসহ ইমেইলে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দীপকে জোর দিয়ে বলেন, শহরের মতো গ্রামের কৃষক-শ্রমিকের সন্তানরাও যেন সমান সুযোগ-সুবিধা পায়, কারণ ভালো শিক্ষা পাওয়া তাদের মৌলিক অধিকার।

এদিকে পৃথক এক বার্তায়, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে অনশনরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ঝাড়খণ্ডের ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতোর আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছেন অভিজিৎ দীপকে। অনশনরত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের কঠোর সমালোচনা করে তিনি এটিকে ‘নির্মম ও অমানবিক’ হিসেবে আখ্যা দেন। টানা ১৮ দিন ধরে চলা ঝাড়খণ্ডে ছাত্র আন্দোলন চরমে পৌঁছেছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে গত সোমবার রাঁচির পুরনো বিধানসভা ভবন থেকে নতুন বিধানসভা ভবন পর্যন্ত একটি শান্তিপূর্ণ অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। এই ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে লাঠিচার্জ, জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এ সময় পুলিশের লাঠির আঘাতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হন।

উল্লেখ্য, প্রাথমিক অবস্থায় অনলাইনে একটি ব্যঙ্গাত্মক ও স্যাটায়ার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে রাজপথে আন্দোলনে নামে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ভারতে বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে ৩৬ দিনব্যাপী টানা আন্দোলন চালায় তারা। পরে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলে ২৫ জুলাই তারা সেই আন্দোলন স্থগিত করেছিল।