মাদকের থাবায় ধ্বংসের পথে যুবসমাজ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবাধে বিক্রয় হচ্ছে হরেক রকমের মাদক। দিনদুপুরে প্রকাশ্যেই চলছে মাদক বেচাকেনা ও সেবন। মাদক সহজে পাওয়া যায় বলে এলাকার উঠতি বয়সি কিছু তরুণ মাদক পরিবহন ও সেবনে জড়িয়ে পড়েছে। অনেক অভিভাবকই জানেন না তার সন্তান মাদকের ভয়াবহ ছোবলে বিপদগামী হচ্ছে। এদের মধ্যে কিছু স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ক্লাস ফাঁকি দিয়ে মাদক সেবনে আসক্ত হচ্ছে।

বিশেষ করে কিশোর গ্যাংরা বিভিন্ন স্থানে মাদক সেবনের আস্তানা গড়ে তুলেছে। ফলে এলাকায় চুরি,ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। মাদকের এমন ভয়াবহ বিস্তারে অতিষ্ঠ ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

অভিযোগ রয়েছে,পোষাকধারি লোকজনদের মাসোহারা দিয়ে মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে ধবংস হচ্ছে যুবসমাজ। বাড়ছে নানা ধরনের অপরাধ। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। যদিও পুলিশের দাবি,মাদক নির্মূলে তাদের তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অনুসন্ধান ও সরেজমিনে জানা গেছে,উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন বড় মাদক কারবারি রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, তারা বিভিন্ন মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে আনোয়ারায় একটি শক্তিশালী সাম্রারাজ্য গড়ে তুলেছেন। এই কারবারিদের মাধ্যমেই উপজেলার অন্তত ৪০টি স্পটে ইয়াবা, গাঁজা, মদসহ বিভিন্ন রকমের মাদক বিক্রি হচ্ছে। কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এ উপজেলায় নৌপথ ও সড়ক দিয়ে মাদক পরিবহন করা হয়ে থাকে। 

এখানকার খুচরা ও পাইকারি মাদক কারবারিরা বিভিন্ন কৌশলে মাদক আনা নেয়া করে থাকে। বিভিন্ন হাট-বাজার, টং দোকান, বিভিন্ন পয়েন্টে ও কিছু কিছু ঘর-বাড়িতে মাদক বিক্রি হচ্ছে। চিহ্নিত মাদক কারবারি ও সেবনকারি যারা একাধিক বার পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। তারা দূর থেকে উঠতি বয়সি তরুণ-তরুণী ও বয়স্ক মহিলাদের দিয়ে মাদক পরিবহণ করছে। যাতে কারো সন্দেহের সৃষ্টি না হয়।

এ উপজেলার একাধিক মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগিরা একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও জেল থেকে বের হয়ে পুনরায় ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ইয়াবা কারবারিরা অনেক ভদ্রবেশি লোকদের চাঁদা দিয়েও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়,উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে মাদকের ব্যবসা জমজমাট। অথচ কেউ টু শব্দ করার সাহস নেই। কিন্তু এলাকার অধিকাংশ লোক জানেন, কে মাদক কারবারি এবং কে সেবনকারি। সেবনকারি আর খুচরা বিক্রেতারা গ্রেপ্তার হয়,কিন্তু কারবারিরা গ্রেপ্তার হয়না। এটাই উপজেলার মাদক ব্যবসার লুকোচুরি খেলা। মুলত এ ধরনের ঘটনা মাদক উদ্ধার নয় বরং মাদক কারবারিদের আড়াল করার কৌশল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খুচরা ও ছোটোখাটো মাদক কারবারি বা সেবনকাররিরা প্রায়ই ধরা পড়লেও,পর্দার আড়ালে থাকা মূলহোতা ও রাঘববোয়ালরা সবসময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। মাদকাসক্তরা মাদকের টাকার জন্য মা-বাবা, স্ত্রী-ুপুত্রকে প্রায়ই মারপিট করে এবং অনেকেই বিভিন্ন বাড়িঘর দোকানপাট, স্কুল-কলেজ,মসজিদ-মন্দিরে চুরি করছে। এভাবে মাদক কারবারি ও সেবনকারির সংখ্যা বাড়ছে। অচিরেই মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা  গ্রহণ করা না হলে পারিবারিক ও সামাজিক শান্তি বিনষ্ট হবে।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী জানান, মাদক ব্যবসায়িদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে কোন আপোষ নেই। আমরা প্রতিনিয়ত মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছি।

এ বিষয়ে আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। মাদক নির্মূল ও মাদকমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।