৫ সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে রোনালদো-রদ্রিগেজের রাজকীয় বিয়ে

একসঙ্গে বসবাস করছেন সেই ১০ বছর আগে থেকেই। এর মধ্যে ৫টি সন্তানের জন্মও দিয়েছেন তারা। বাকি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। গত বছর বাগদান পর্ব শেষ করে এবার বিয়েটাও সারলেন বেশ আনন্দঘন পরিবেশে। নির্ধারিত ছিল গত ৮ আগস্ট পর্তুগালের মাদেইরাতে বিয়ে করবেন বিশ্বখ্যাত ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও স্প্যানিশ মডেল ও নৃত্যশিল্পী জর্জিনা রদ্রিগেজ। কিন্তু আগে থেকেই ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সেই তারিখ ও স্থান পরিবর্তন করেন তারা।

বিয়ের আয়োজন দেখে অবাক জর্জিনা রদ্রিগেজ 

অবশেষে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তারা। ইনস্টাগ্রামে একটি যৌথ পোস্টের মাধ্যমে তারা বিয়ের আংটি পরা হাতের ছবি শেয়ার করে সুখবরটি জানান। পর্তুগালের কাসকাইস শহরের একটি মনোরম কোস্টাল রিসোর্ট টাউনে অত্যন্ত ঘরোয়া অনুষ্ঠানে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিশেষ দিনে পাশে ছিল তাদের পাঁচ সন্তান। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার অনেক আগেই রোনালদো বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে মাঝে মাঝে জর্জিনাকে তার ‘স্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করতেন। দীর্ঘদিনের সেই সম্পর্ক অবশেষে পেল আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।

রোনালদো ও জর্জিনার প্রথম পরিচয়, প্রেমের গল্প অনেকেরই জানা। জর্জিনা বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে এবং তার নেটফ্লিক্স সিরিজ ‘আই অ্যাম জর্জিনা’তেও সেই স্মৃতির কথা বলেছেন। ২০১৬ সালের জুনে মাদ্রিদের একটি গুচি বুটিকে দোকান সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন জর্জিনা। সেই সময় রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলছিলেন রোনালদো। বিশ্ব ফুটবলে তখন তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে।

একান্ত সময়ে রোনালদো-রদ্রিগেজ

জর্জিনার ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের প্রথম দেখাতেই এক ধরনের আকর্ষণ তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি সেই অভিজ্ঞতাকে ‘প্রথম দেখাতেই প্রেম’ হিসেবে বর্ণনা করেন। রোনালদোর উপস্থিতি এবং তার সঙ্গে করা আচরণ জর্জিনার মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল। এর কিছুদিন পর একটি আলাদা ব্র্যান্ড ইভেন্টে তাদের আবার দেখা হয়। কর্মক্ষেত্রের ব্যস্ততা ও আনুষ্ঠানিকতার বাইরে সেখানে তারা আরও স্বচ্ছন্দ পরিবেশে একে অপরকে জানার সুযোগ পান। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে তাদের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে।

সম্পর্কের শুরুর দিকে দুজনেই বিষয়টি অনেকটা ব্যক্তিগত রাখার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু গণমাধ্যমের তীব্র আগ্রহের কারণে সেই গোপনীয়তা বেশিদিন ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ২০১৬ সালের শেষ দিকে তাদের এক সঙ্গে দেখা যায় ডিজনিল্যান্ড প্যারিসে। সেসময় রোনালদো পরচুলা ও সানগ্লাস পরে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন।

পাঁচ সন্তানের সঙ্গে রোনালদো দম্পতি

এরপর ২০১৭ সালের শুরুতে ‘দ্য বেস্ট ফিফা ফুটবল অ্যাওয়ার্ডস’ মঞ্চে তাদের আনুষ্ঠানিক রেড-কার্পেট অভিষেক ঘটে। এরপর রোনালদোর ফুটবল ক্যারিয়ারের সঙ্গে তাল মিলিয়েই বদলেছে তাদের জীবনযাত্রার ঠিকানা। ২০১৮ সালে রোনালদো জুভেন্টাসে যোগ দিলে তারা মাদ্রিদ ছেড়ে ইতালির তুরিনে পাড়ি জমান। পরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে রোনালদোর প্রত্যাবর্তনের সময় তাদের ঠিকানা হয় যুক্তরাজ্য। এরপর আল-নাসরে যোগ দেওয়ার পর তারা চলে যান সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে। দম্পতি হিসেবে রোনালদো ও জর্জিনা তাদের সন্তানদের নিয়ে একটি বড় পরিবার গড়ে তুলেছেন। রোনালদোর বড় ছেলে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র, এরপর সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেওয়া যমজ সন্তান ইভা ও মাতেও।

ফটোসেশনে দুই জন

২০১৭ সালের নভেম্বরে রোনালদো ও জর্জিনার প্রথম সন্তান আলানা মার্টিনার জন্ম হয়। ২০২২ সালের এপ্রিলে তাদের পরিবারে আসে আরেক কন্যাসন্তান, বেলা এসমেরাল্ডা। তবে সেই বছরই তাদের জীবনে নেমে আসে এক গভীর শোক। ২০২২ সালের এপ্রিলে প্রসবের সময় তাদের নবজাতক পুত্র অ্যাঞ্জেলকে হারানোর খবর জানান এই দম্পতি। মর্মান্তিক এই ক্ষতি তাদের পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। পরবর্তী সময়ে রোনালদো ও জর্জিনা দুজনেই সেই কঠিন সময়ের কথা খোলামেলাভাবে বলেছেন এবং একে অপর ও তাদের সন্তানদের কাছ থেকে পাওয়া শক্তির কথা উল্লেখ করেছেন।