জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগ থেকে রেকর্ড প্রায় ১২৫ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ১৯০০ কোটি টাকা) ট্রান্সফার ফিতে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিয়েছেন আইভরি কোস্টের উদীয়মান তরুণ ফুটবল উইঙ্গার ইয়ান দিওমান্দে। রিয়াল মাদ্রিদের অফিসিয়াল গণমাধ্যমে নিজের প্রথম সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। পাঠকদের জন্য তাঁর দেওয়া পুরো বক্তব্যের বাংলা অনুবাদ তুলে ধরা হলো:
প্রশ্ন: পিএসজিসহ অন্য ক্লাবের প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও কেন রিয়াল মাদ্রিদকে বেছে নিলেন?
ইয়ান দিওমান্দে: কারণ এটি বিশ্বের সেরা ক্লাব। রিয়াল মাদ্রিদ যখন আপনাকে ডাকবে, তখন আপনি ‘না’ বলতে পারেন না। বিষয়টা খুবই সাধারণ। আমি অত্যন্ত গর্বিত এবং আনন্দিত, কারণ এটি আমার স্বপ্নের ক্লাব ছিল। ছোটবেলায় আমি সবসময় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্লাবগুলোতে খেলার স্বপ্ন দেখতাম। এখানে আসতে পেরে আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ। আমি চাই আমার পরিবার যেন আমাকে নিয়ে গর্ববোধ করে। এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ ফুটবল ক্লাব এবং পৃথিবীর প্রতিটি ফুটবলারই এখানে খেলতে চায়। আমি আমার এই আনন্দ সবার সাথে ভাগ করে নিতে চাই এবং দলের প্রতিটি সাফল্যের অংশীদার হতে চাই।
প্রশ্ন: রিয়ালের তারকাখচিত ড্রেসিংরুম ও নতুন সতীর্থদের সাথে মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন?
ইয়ান দিওমান্দে: ড্রেসিংরুমে বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের পাশে পাওয়াটা দারুণ ব্যাপার। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখা যায়। যাদের এতদিন কেবল টিভিতে দেখতাম, এখন তাদের সাথেই একই ড্রেসিংরুম শেয়ার করছি—অনুভূতিটা সত্যি অবিশ্বাস্য!
প্রশ্ন: নতুন দলের অনুশীলন ও পরিবেশের পার্থক্য কতটা অনুভব করছেন?
ইয়ান দিওমান্দে: এটি আগের যেকোনো ক্লাবের চেয়ে আলাদা এবং অনেক বেশি কঠিন। বিশ্বসেরা ক্লাবের ক্ষেত্রে এমন কঠোর হওয়াটাই স্বাভাবিক। বিশ্বের সেরা হতে হলে আপনাকে অন্য সব ক্লাবের চেয়ে দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হবে, আর আমি এখন সেটাই করার চেষ্টা করছি।
প্রশ্ন: রিয়ালে আসার পেছনে কোচ হোসে মরিনহোর ভূমিকা কতটা ছিল?
ইয়ান দিওমান্দে: আমি আমাদের হেড কোচকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই। রিয়ালে সই করার আগেই ওনার সাথে আমার বিস্তারিত কথা হয়েছিল। কোচ এবং ক্লাব কর্তৃপক্ষ আমার ওপর আস্থা রেখেছেন বলেই আজ আমি এখানে আসতে পেরেছি। আমার ওপর বিশ্বাস রাখার জন্য কোচ ও ক্লাবকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
প্রশ্ন: মাঠের বাইরে নিজেকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
ইয়ান দিওমান্দে: আমি ব্যক্তিগতভাবে কিছুটা লাজুক স্বভাবের। কথা কম বললেও দ্রুত দলের কৌশল ও ডাইনামিক্সের সাথে মানিয়ে নিতে চাই, যেন দলকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিতে পারি।
প্রশ্ন: রিয়াল মাদ্রিদে আপনার মূল লক্ষ্য বা মানসিকতা কী?
ইয়ান দিওমান্দে: ক্লাবের হয়ে সম্ভাব্য সব শিরোপা জেতা এবং দলকে প্রতিটি প্রতিযোগিতায় সফল হতে সাহায্য করা। আমি এখানে আসতে পেরে রোমাঞ্চিত এবং আশা করি দলের সাথে আমার পথচলা সাফল্যমণ্ডিত হবে। হালা মাদ্রিদ!