টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নাগবাড়ী ইউনিয়নের ধানগড়া গ্রামে প্রবাসফেরত যুবক রুবেলের বিয়ে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিয়ের আয়োজনের মধ্যেই তার সঙ্গে দুই বছরের প্রেমের সম্পর্কের দাবি করে জেসমিন নামের এক নারী গত দুই দিন ধরে রুবেলের বাড়িতে অবস্থান করছেন। তাকে বিয়ে করার দাবিতে তিনি অনশন করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধানগড়া গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে রুবেল দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন। গত সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে তিনি দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর আগামী শুক্রবার (১৪ আগস্ট) তার বিয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়। এ উপলক্ষে একই ইউনিয়নের পাকুটিয়া গ্রামের প্রায় ১২০ জন আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে ভোজের আয়োজন করা হয়। এছাড়া ১০ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
তবে বিয়ের আয়োজনের মধ্যেই রুবেলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে দাবি করে তার বাড়িতে অবস্থান নেন জেসমিন। স্থানীয়দের ভাষ্য, রুবেলই জেসমিনকে তার বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে পরিবারের চাপের মুখে রুবেল সেখান থেকে চলে যান বলে জেসমিন দাবি করেন। এরপর থেকেই তিনি রুবেলের বাড়িতে অবস্থান করে তাকে বিয়ের দাবি জানিয়ে আসছেন।
জেসমিনের দাবি, রুবেলের সঙ্গে তার প্রায় দুই বছরের সম্পর্ক। রুবেলের কথাতেই তিনি তার বাড়িতে এসেছেন। কিন্তু পরে পরিবারের চাপে রুবেল চলে যান। এখন তিনি রুবেলকেই বিয়ে করতে চান।
জেসমিন বলেন, ‘রুবেলের সঙ্গে আমার দুই বছরের সম্পর্ক। সে আমাকে বাড়িতে নিয়ে এসেছে। আমি তাকে বিয়ে করতে চাই।’
জানা গেছে, জেসমিন একই ইউনিয়নের দুয়ানীপাড়া গ্রামের সুজন (জালাল)-এর সঙ্গে প্রায় নয় বছর ধরে সংসার করছেন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। জেসমিনের স্বামী সুজন (জালাল) প্রায় দেড় বছর ধরে প্রবাসে রয়েছেন।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম লাভু বলেন, ‘আমি চাই ছেলে-মেয়ে উভয় পক্ষের কথা শুনে তাদের মতামতের ভিত্তিতে বিষয়টির মীমাংসা করতে। রুবেলকে উপস্থিত করার কথা জানিয়েছি। সে এলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
তবে জেসমিনের দাবির বিষয়ে রুবেল ও তার পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।