মাটি ও মানুষের গল্প বলতেন তারেক মাসুদ

আমাদের চারপাশের প্রাত্যহিক জীবন আর সত্যকে সচেতনভাবে সেলুলয়েডের ফ্রেমে তুলে ধরেছিলেন তারেক মাসুদ। ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অকালে প্রদীপ নেভে এই কালজয়ী নির্মাতার। আজ তার ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী।

তারেক মাসুদ ছিলেন মূলত এক অদম্য সিনেমার ফেরিওয়ালা। জীবনের প্রথাগত রঙ ও স্বাদ ছেঁকে নিয়ে তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতেন। সেই সৃষ্টির আলো ছড়িয়ে দিতে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সাদরে ঘুরে বেড়াতেন, পৌঁছে যেতেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।

১৯৫৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ফরিদপুরের ভাঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। শৈশবের একটি বড় অংশ মাদ্রাসায় কাটলেও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাস বিভাগে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সেই মধ্য গগনেই গভীরভাবে যুক্ত হন চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের সঙ্গে।

১৬ মিলিমিটার প্রজেক্টরে সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’ দেখে চলচ্চিত্রে তার প্রথম বিমুগ্ধ অভিজ্ঞতা। ছবির নায়ক অপুর সঙ্গে নিজের শৈশব ও লাজুক চরিত্রের অদ্ভুত মিল পেয়েছিলেন তিনি। সেই থেকেই সত্য অন্বেষণের তাড়না তাকে প্রামাণ্যচিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে পথ দেখিয়েছে।

অসামান্য সব সৃষ্টির মধ্য দিয়ে তিনি কেবল বাংলাদেশ নয়, বিশ^ চলচ্চিত্রেও খ্যাতিও পেয়েছেন।