ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে তোলা দালিচ এখন আরব আমিরাতের কোচ 

ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সফল ও দীর্ঘমেয়াদি কোচের অধ্যায় শেষ করে নতুন ঠিকানায় পাড়ি জমিয়েছেন জ্লাতকো দালিচ। ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব ছাড়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন এই অভিজ্ঞ মাস্টারমাইন্ড।

২০৩০ সালের বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আমিরাত ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাকে এই গুরুদায়িত্ব সঁপে দিয়েছে, যার মূল লক্ষ্য দলটিকে বিশ্বকাপে মূল পর্বে পৌঁছে দেওয়া।

চলতি বছরের জুলাইয়ে উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ পর্তুগালের কাছে হেরে ক্রোয়েশিয়ার বিদায়ের পর পদত্যাগ করেন দালিচ। ক্রোয়েশিয়ার ডাগআউটে তার নয় বছরের বর্ণাঢ্য মেয়াদ বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা সাফল্যের গল্প। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে রানার্সআপ করা, ২০২২ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানে নিয়ে যাওয়া এবং ২০২৩ উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালে তোলার নেপথ্যে কারিগর ছিলেন এই দালিচই। এবার সেই ইউরোপীয় সাফল্যের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমিরাতের ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ তার সামনে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুটবলের সঙ্গে দালিচের যোগসূত্র অবশ্য নতুন কিছু নয়। এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত আমিরাতের শীর্ষ ক্লাব আল আইনের সফল কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। সেই সুবাদে দেশটির ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে তার বেশ ভালো জানাশোনা রয়েছে। আল আইনকে প্রো লিগ, প্রেসিডেন্টস কাপ ও সুপার কাপ জেতানোর পাশাপাশি ২০১৬ সালের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালেও তুলেছিলেন তিনি। রোমানিয়ান কোচ কসমিন ওলারোইয়ুর স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিলেন, যখন দলটি বিগত বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে ব্যর্থ হয়ে বেশ কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে।

কোচ হিসেবে বরখাস্ত হওয়া কসমিনের বিদায়ের পর আমিরাত ফুটবল বোর্ড এখন পুরোপুরি ঢেলে সাজাতে চাইছে তাদের জাতীয় দলকে। দালিচের সামনে এখন প্রাথমিক বড় চ্যালেঞ্জ হলো সৌদি আরবে অনুষ্ঠেয় ২০২৭ এএফসি এশিয়ান কাপ। যেখানে 'ই' গ্রুপে দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও ইয়েমেনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষদের মোকাবিলা করতে হবে আমিরাতকে। সুদূর অতীতে ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে মাত্র একবার মূল পর্বে খেলা আমিরাত সমর্থকরা এখন দালিচের জাদুকরি ছোঁয়ায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।