অস্ট্রেলিয়াকে ২০০ এর আগেই বুকড করলো হাসানরা

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে শুরুর পর শেষটাও নিজের নামেই লিখেছেন হাসান মাহমুদ। অজিদের পেস তোপে ভুগিয়ে তুলে নিলেন লাল বলের ক্রিকেটে নিজের তৃতীয় ফাইফার। পরে নিয়েছেন আরও একটি উইকেট। এদিকে হাসানের পেস দাপটে বেশ ভালোভাবেই তাল মিলিয়েছেন এবাদত-তাসকিনরাও। এতেই তৃতীয় সেশনের প্রথম দিকে এসে  ১৯৮ রানে অলআউট হয়েছে স্বাগতিকরা।

টেস্ট ক্রিকেটে এই প্রথম এক ইনিংসে ৬ উইকেট নিলেন হাসান। প্রস্তুতি ম্যাচেও দারুণ বোলিংয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্টে বাংলাদেশের ফেরার শুরুটা রাঙিয়ে রাখলেন এই ডানহাতি পেসার। নাহিদ রানার না থাকা নিয়ে নিয়ে দল থেকে শুরু করে সমর্থকরা ভুগছিল হতাশায় সেখানে সব আলো নিজের দিকেই কেড়ে নিলেন হাসান।

মারারা স্টেডিয়ামে টসে জিতে শুরুটা ঠিকঠাকই করেছিল স্বাগতিকরা। এই শহরের ছেলে জেক ওয়েদারাল্ডকে নিয়ে দেখেশুনেই খেলছিলেন আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেড। হয়তো ওপেনিংয়েই বড় জুটির আশা দেখছিল অজি সমর্থকেরা। তবে হাসান সেখানে ভেবে রেখেছিলেন ভিন্ন পরিকল্পনা। ১২তম ওভার কট বিহাইন্ডে ফেরান ওয়েদারাল্ডকে (২৩)। হাসানের পরের ওভারেই বোল্ড হয়ে ফেরেন আরেক ওপেনার হেড (২২)। 

সফরকারীদের পেস তোপে শুরুর দুই ব্যাটারকে হারিয়ে যখন চাপ সামাল দেয়ার রাস্তা খুঁজছিল অজিরা, সেখানেই হাজির এবাদতের স্যালুট। ১৯তম ওভারে অজিদের ৬১ রানের সংগ্রহের মাথায় মারনাস লাবুশেনকে (১) ফিরিয়ে নিজের সেই চিরচেন উদযাপনে মাপেন ৩২ বছর বয়সী এই পেসার। পরে প্রথম সেশনের শেষ ওভারে ক্যামেরন গ্রিনের (১৩) উইকেট তোলেন তাসকিন। স্কোরবোর্ডে তখন ৪ উইকেটে কেবল ৭৪ রান।

শুরুর সেই চাপ সামলে অ‍্যালেক্স ক্যারিকে নিয়ে থিতু হবার পথে এগোচ্ছিলেন স্টিভ স্মিথ। দুজনে মেলে স্কোরবোর্ডে যোগ করে ফেলেন ৫০ রান। তবে সেখান থেকে তাদের জুটি আর বেশিদূর এগোতে দেননি এবাদত। ৩৭তম ওভারের প্রথম বলে বোল্ড করে ফেরান অজিদের উইকেটরক্ষক ব্যাটার ক্যারিকে (১৩), এতে থামে স্মিথ-ক্যারির এই ইনিংসের সর্বোচ্চ ৫৫ রানের জুটি। সাতে নামা ওয়েবস্টার (১২) কে ফেরান তাসকিন, ম্যাচে এটি তার দ্বিতীয় শিকার। 

অজিদের অর্ধেকের বেশি দল যখন ড্রেসিংরুমে, স্কোরবোর্ডে তখন ৬ উইকেটে ১৭২ রান। একপ্রান্ত সামলে রেখে এগোচ্ছিলেন স্মিথ। সেখানে ফের চমক নিয়ে হাজির হাসান। শেষ ২৬ রান যোগ করতেই অজিদের বাকি চার ব্যাটারকে একে একে সাজঘরে পাঠান তিনি। ১৭ ওভারে ৩ মেডেন দিয়ে ৫৫ রান খরচায় তোলেন ৬টি গুরুত্বপূর্ন উইকেট। দুটি করে উইকেট নেন এবাদত ও তাসকিন। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করেন স্মিথ। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস ১৯৮/১০ (স্মিথ ৭১, ওয়েদারল্ড ২৩, হেড ২২, কেরি ১৯, গ্রিন ১৩, ওয়েবস্টার ১২, কামিন্স ৯, লায়ন ৭, হ্যাজলউড ৪*, লাবুশেন ১, স্টার্ক ১। হাসান ৬/৫৫, তাসকিন ২/৫৫, এবাদত ২/৩৯, মিরাজ ০/১২, তাইজুল ০/২৪।