কুরুচিকর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ বাধঁন, দিলেন কড়া জবাব

সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর পোস্টের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর প্রকাশ করে হয়রানির অভিযোগ করেছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ‘মারুফ খান মুন্না’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে তাকে উদ্দেশ্য করে এসব করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার। ঘটনার স্ক্রিনশট প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর জবাব দিয়েছেন এই লাক্সকন্যা। 

নিজের ফেসবুক পোস্টে কয়েকটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করে সেখানে বাঁধন লিখেছেন, ‘যখন কোনো দল বলে, তারা সরকারে থাকলে নারীরা নিরাপদ থাকবে, অথচ একই সময়ে তাদেরই সমর্থকেরা অনলাইনে নারীদের ওপর এভাবে হামলে পড়ে, হয়রানি করে, এমনকি এখন এই ফেসবুক আইডি থেকে আমার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে—তখন এর চেয়ে বড় পরিহাস আর কী হতে পারে!’ 

ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর প্রকাশের বিষয়ে বাঁধন আরও লেখেন, ‘কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর তার অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া শুধু হয়রানি নয়, এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’ এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাকে ভয় দেখানো বা আতঙ্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাকে এত সহজে ভয় দেখিয়ে বা আতঙ্কিত করে ফেলা সম্ভব নয়। আমাকে সেখানে নিয়ে যেতে হলে তোমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে।’ 

পোস্টের শেষ অংশে নিজের মানসিক সুস্থতা নিয়েও কথা বলেন বাঁধন। তিনি জানান, নিজেকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখার জন্য তিনি থেরাপি নিয়েছেন এবং এখনো নিচ্ছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধও নিয়েছেন বলে জানান তিনি। বাঁধনের ভাষায়, ‘আমি প্রায় হাসিনা হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু থেরাপি নিয়েছি, এখনো নিচ্ছি, প্রয়োজনীয় ওষুধও নিয়েছি—নিজেকে মানুষ হিসেবে ধরে রাখার জন্য, ক্ষমতা বা প্রতিহিংসা আমাকে যেন দানবে পরিণত না করে।’ 

এরপরই নিজের স্বভাবসুলভ দৃঢ়তায় তিনি লেখেন, ‘তাই আমাকে ভয় দেখিয়ে খুব একটা লাভ হবে না। আর হ্যাঁ, আমি ডাইনি। মনে রেখ।’ বাঁধন ঘটনাটিকে গুরুতর হয়রানি উল্লেখ করে বলেন, কারও অনুমতি ছাড়া তার ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া শুধু হয়রানি নয়, শাস্তিযোগ্য অপরাধও। ভয় দেখিয়ে তাঁকে চুপ করানো সম্ভব নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।