চট্টগ্রাম নগরীর বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ঘিরে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট নিরসন ও পার্কিং সংকট সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) পরিদর্শনের পর হাসপাতালগুলোর পার্কিং সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন স্থানে হাসপাতাল স্থানান্তর এবং বিকল্প পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার একগুচ্ছ পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষগুলো।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সিডিএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক ফলোআপ বৈঠকে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে এসব প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে হাসপাতাল প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে সিএসসিআর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা নিজস্ব ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় প্রহরীর সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি পার্কিং সুবিধা সম্প্রসারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের সঙ্গে আলোচনা করে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান স্থানে বহুতল পার্কিং গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে।
অন্য দিকে ডক্টরস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিডিএর কাছে লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়ে জানিয়েছে, আগামী অক্টোবরের মধ্যে তারা সব কার্যক্রম নতুন নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর করবে। স্থানান্তর হওয়ার আগ পর্যন্ত রোগীদের জন্য সাময়িক পার্কিংয়ের সুব্যবস্থা রাখার কথা জানানো হয়।
পার্কভিউ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ভবনের একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্লোর পার্কিংয়ের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। এছাড়া সিডিএর নির্দেশনা মেনে তারা ড্রপিং বের পরিসর বাড়ানো ও ডিজিটাল সাইনবোর্ডের মাধ্যমে খালি পার্কিংয়ের তথ্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।
ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা পার্শ্ববর্তী স্থানে অতিরিক্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টার পাশাপাশি বিদ্যমান ভবন সংস্কারে স্থপতিদের নকশা সিডিএতে জমা দেবে। এ ছাড়া হালিশহরে অনুমোদিত স্থানে স্থায়ীভাবে হাসপাতাল স্থানান্তরের কাজও শুরু করার কথা জানানো হয়।
বৈঠকে সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, ধারাবাহিক পরিদর্শনের পর হাসপাতালগুলো কার্যকর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। এতে হাসপাতালকেন্দ্রিক যানজটে কিছুটা হলেও সুফল মিলছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্দেশিত সময়ের মধ্যে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে না পারলে জড়িত হাসপাতালের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে সিডিএ।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য সিটি মেয়র, জেলা প্রশাসক, ট্রাফিক কমিশনার ও জেলা সিভিল সার্জনকে নিয়ে খুব শিগগিরই এক যৌথ বৈঠক আহ্বান করে সমন্বিত কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে।