ধানমন্ডি-হাতিরঝিলের আদলে নান্দনিক লেক চান উত্তরাবাসী

উত্তরার ১২ থেকে ১৭ নম্বর সেক্টরজুড়ে প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ লেক। একসময় ময়লা-আবর্জনা ও কচুরিপানায় ভরা এই জলাশয় এখন অনেকটাই বদলে গেছে। দীর্ঘ নয় মাসের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে লেকটির প্রায় ৭৫ শতাংশ পরিষ্কার করা হয়েছে। বাকি প্রায় ৫০০ মিটার অংশও আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে পরিষ্কার করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে শুধু পরিচ্ছন্নতা নয়, ধানমন্ডি ও হাতিরঝিলের আদলে লেকটিকে পরিকল্পিতভাবে সাজিয়ে একটি নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব নগর বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সরকারি অর্থায়ন ছাড়াই গত নয় মাস ধরে লেকটির পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আফাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে দলটির নেতাকর্মীরা এ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার ফলে লেকের পানি চলাচল ও আশপাশের পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

এর আগে, ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর ব্রিজসংলগ্ন খাল, লেক, ডোবা ও নালা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় আফাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা টানা প্রায় দুই মাস কাজ করে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার খাল পরিষ্কার করেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে লেক ও খালে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকায় পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। একই সঙ্গে দুর্গন্ধ ও পরিবেশদূষণের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হতো আশপাশের বাসিন্দাদের। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরুর পর পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে।

তবে পরিচ্ছন্নতার পরও লেকের বিভিন্ন অংশে আবারও ময়লা জমতে দেখা যায়। এ অবস্থায় ২০২৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আফাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে আবারও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘমেয়াদে লেকটি পরিচ্ছন্ন রাখতে নিয়মিত তদারকি ও নাগরিক সচেতনতা প্রয়োজন।

পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি লেকের দুই পাশে বনায়নের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের লক্ষ্য, জলাশয়টির পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি এর সৌন্দর্যও বাড়ানো। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাঁটা, অবসর কাটানো ও বিনোদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে দিয়াবাড়ি লেককে আরও পরিকল্পিতভাবে সাজানোর উদ্যোগের কথাও জানিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। সংস্থাটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন জানিয়েছেন, হাতিরঝিল ও ধানমন্ডি লেকের আদলে দিয়াবাড়ি লেককে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

উত্তরাবাসীর প্রত্যাশা, শুধু পরিচ্ছন্নতা নয়, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে লেকটির দুই পাশে হাঁটার পথ, সবুজায়ন, বসার জায়গা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এতে উত্তরার এই দীর্ঘ জলাধারটি একদিকে যেমন পানি নিষ্কাশন ও পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে নগরবাসীর জন্য একটি নান্দনিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবেও গড়ে উঠতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকা লেকটি যদি ধানমন্ডি বা হাতিরঝিলের আদলে পরিকল্পিতভাবে সাজানো যায়, তাহলে এটি উত্তরার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা কমানো, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং নাগরিকদের বিনোদনের সুযোগ তৈরিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি লেকের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় ভবিষ্যতেও ধারাবাহিক উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে লেক ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।